“হিজাব বিতর্ক থেকে পরমাণু স্বপ্ন”—কেন খামেনেইকে নিকেশ করতে মরিয়া ছিল ট্রাম্প?

দীর্ঘ ৩৫ বছরের একচ্ছত্র শাসনের যবনিকা পড়ল। রবিবার ভোরে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ এয়ারস্ট্রাইকে নিহত হলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। ইরানের জাতীয় সংবাদমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করতেই দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই মৃত্যুর খবর একদিকে যেমন শোকের ছায়া এনেছে, তেমনই ইরানের অসংখ্য অত্যাচারিত নারী ও আমজনতার কাছে তা বয়ে এনেছে মুক্তির নিঃশ্বাস।

যেভাবে চলল অপারেশন: ড্রোন ও মিসাইলের লক্ষ্য যখন খামেনেই

মার্কিন সূত্র অনুযায়ী, হামলার সময় খামেনেই তাঁর কার্যালয়ে নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা আলি শামখানি এবং আইআরজিসি (IRGC) প্রধান মহম্মদ পাকপুরের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ইজরায়েলি মিসাইল আছড়ে পড়ে ভবনটিতে। মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই হামলায় খামেনেইর সঙ্গে তাঁর মেয়ে, জামাই, নাতি ও পুত্রবধূরও মৃত্যু হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, হামলার পর খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খামেনেইর মৃতদেহ দেখানো হয়েছে।

১৯৩৯ থেকে ২০২৬: এক কট্টরপন্থী নেতার উত্থান ও পতন

  • শৈশব ও বিপ্লব: ১৯৩৯ সালে মাশাদে জন্ম। মাত্র ৪ বছর বয়সে ধর্মীয় পাঠ শুরু। ১৯৭৯-এর ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন তিনি।

  • মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা: ১৯৮১ সালেও একবার মসজিদে বিস্ফোরণে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি, যার ফলে তাঁর ডান হাতটি চিরতরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়।

  • মসিহা থেকে একনায়ক: ১৯৮৯ সালে রুহতোল্লাহ খামেনেইর মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতা হন। সাদ্দামের ইরাককে আটকে দিয়ে একসময় ইরানে ‘মসিহা’ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

কেন খামেনেইর রক্ত চেয়েছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল?

বিশেষজ্ঞদের মতে, খামেনেইর পরমাণু অস্ত্র তৈরির জেদই তাঁর কাল হলো। তাঁর তত্ত্বাবধানেই শুরু হয়েছিল ইউরেনিয়াম শুদ্ধিকরণের কাজ, যা ইজরায়েলের জন্য ছিল অস্তিত্বের সংকট। অন্যদিকে, হিজাব বিরোধী আন্দোলন দমন করতে বিদেশি ভাড়াটে সেনা নামিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ খামেনেইকে পশ্চিমি দুনিয়ার চোখে ‘নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক’ করে তুলেছিল। ট্রাম্পের কাছে তিনি ছিলেন ‘প্রধান শত্রু’।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ: এর পর কী?

খামেনেইর মৃত্যু ইরানকে এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একদিকে চলছে ৪০ দিনের শোক, অন্যদিকে শুরু হয়েছে নতুন নেতা নির্বাচনের গোপন প্রক্রিয়া। এই ক্ষমতার লড়াই ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা তো বটেই, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যু কি ইরানে এক নতুন গণতান্ত্রিক ভোরের সূচনা করবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যকে ঠেলে দেবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে? নজর রাখছে বিশ্ববাসী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy