“আমি নিষেধ করেছিলাম, তাও শোনেনি!” বেলডাঙা অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক হুমায়ুন, অধীরকে দিলেন ‘গো ব্যাক’ খোঁচা

ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ থেকে রেল রোকো— দফায় দফায় বিক্ষোভে থমকে যায় জনজীবন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে এবার মুখ খুললেন ভরতপুরের বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর

প্ররোচনার অভিযোগ ও হুমায়ুনের সাফাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার নেপথ্যে প্ররোচনার ইঙ্গিত দিলেও তা সরাসরি খারিজ করেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, তিনি নিজেই জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। হুমায়ুন বলেন, “বিক্ষোভকারীরা যখন আমায় ফোন করে, আমি পরিষ্কার বলেছিলাম রাস্তা অবরোধ না করতে। কিন্তু উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছিল যে কেউ কথা শোনেনি।” তিনি আরও যোগ করেন, “পাথর ছোড়া আমি সমর্থন করি না, ওটা কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের কাজ।”

পুলিশের সাহায্য ও অধীরকে কটাক্ষ এদিনের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা এবং তাঁর নিজের হস্তক্ষেপ নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন বিধায়ক।

  • হুমায়ুনের দাবি, অবরোধ তুলতে খোদ এসপি (SP) এবং হরিহরপাড়ার আইসি তাঁকে একাধিকবার ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন।

  • প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “অধীরবাবু ঘোলা জলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকেই শেষ পর্যন্ত ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুনতে হয়েছে।”

ব্রিগেড নিয়ে সংঘাত বেলডাঙার পরিস্থিতির পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সুর চড়িয়েছেন হুমায়ুন। ১ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে সভা করার অনুমতি না মেলায় তিনি তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলকেই একযোগে আক্রমণ করেন। তাঁর মতে, “হুমায়ুন কবীর এখন দুই দলেরই মাথাব্যথা, তাই সভার অনুমতি মিলছে না।” তবে তাঁর হুঁশিয়ারি, ব্রিগেডে জায়গা না পেলে ওই দিনেই মুর্শিদাবাদে বিশাল সভা করবেন তিনি।

প্রেক্ষাপট: বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের ঝুলন্ত দেহ ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রামে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকা। জেলাশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের দীর্ঘ চেষ্টার পর অবরোধ উঠলেও জেলা জুড়ে চাপা উত্তেজনা এখনও বিদ্যমান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy