লোকসভা ভোটের মুখে বঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন মোড়! রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে খোদ ‘ইন্ডি’ (I.N.D.I.A) জোটের শরিক তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন এআইসিসি (AICC) সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর দাবি, বাংলায় নরেন্দ্র মোদি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে পর্দার আড়ালে এক ‘গোপন বোঝাপড়া’ চলছে।
মমতাকে কেন নিশানা খাড়গের?
এদিন জনসভা থেকে খাড়গে অভিযোগ করেন, একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে নিজেকে বিজেপির কট্টর বিরোধী হিসেবে দাবি করলেও, বাস্তবে বাংলায় তিনি বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছেন। খাড়গের কথায়—
“বাইরে লড়াইয়ের নাটক চললেও মোদি এবং দিদির মধ্যে গভীর সমঝোতা রয়েছে। এই সেটিং-এর কারণেই রাজ্যে জোটের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে।”
ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে মোদিকে আক্রমণ
শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, খাড়গের নিশানায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য তুলে ধরে খাড়গে অভিযোগ করেন, মোদিজি ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি ছেড়ে সরাসরি ধর্মীয় বিভাজনের আশ্রয় নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়ে গিয়েছেন, তাই উন্নয়ন বা বেকারত্বের কথা না বলে ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছেন।”
ইন্ডি-জোটের ভবিষ্যৎ ও বঙ্গ রাজনীতি
খাড়গের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বাংলায় কংগ্রেস এবং তৃণমূলের দূরত্ব ঘোচবার আর কোনো জায়গা নেই? জোটের ভেতরে থেকে মমতাকে এভাবে আক্রমণ করায় তৃণমূল নেতৃত্বও ক্ষুব্ধ। ঘাসফুল শিবিরের পালটা দাবি, কংগ্রেস বাংলায় বিজেপির হাত শক্ত করতেই এই ধরণের প্রলাপ বকছে।
সব মিলিয়ে ভোট যত এগোচ্ছে, রাজ্যে তৃণমূল-কংগ্রেস-বিজেপির এই ত্রিমুখী লড়াই এবং জোটের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।





