ভারত-নেপাল সীমান্তের নক্সালবাড়িতে রবিবার গভীর রাতে এক হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকা। গোরু পাচারকারীদের ধাওয়া করতে গিয়ে কার্যত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন এসএসবি-র ৪১ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা। অভিযোগ, পালানোর পথ না পেয়ে পাচারকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এসএসবি-র টহলদারি গাড়িতে সজোর ধাক্কা মেরে জওয়ানদের পিষে মারার চেষ্টা করে।
ফিল্মি কায়দায় ধাওয়া ও হামলা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাত ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ এশিয়ান হাইওয়ে-০২-এর টোল প্লাজায় ওত পেতে ছিলেন জওয়ানরা। একটি সন্দেহভাজন আইশার ট্রাককে থামার নির্দেশ দিলে পাচারকারীরা টোল গেট ভেঙে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এসএসবি-র কুইক রেসপন্স টিম পিছু ধাওয়া করলে পাচারচক্রের পাণ্ডা বিমান ঘোষ জওয়ানদের গাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় এসএসবি-র গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং দুই কনস্টেবল গুরুতর আহত হন।
পুলিশি তৎপরতায় সাফল্য আহত অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি জওয়ানরা। নক্সালবাড়ি পুলিশের সহায়তায় ঘেরাও করা হয় ঘাতক ট্রাকটিকে। তল্লাশিতে উদ্ধার হয় ১৯টি মোষ। হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় চালক নজরুল ইসলাম, খালাসি মহম্মদ মনোজম এবং পাচারচক্রের মূল মাথা বিমান ঘোষকে। জেরায় বিমান স্বীকার করেছে যে, ধরা পড়ার ভয়ে সে জওয়ানদের মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। এই গবাদি পশুগুলো অসম হয়ে বাংলাদেশে পাচারের ছক ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নক্সালবাড়ি থানায় ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা এবং পাচারের মামলা রুজু করা হয়েছে। আহত জওয়ানদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।





