“ভারতের চাল, বিশ্বের থালা”— বিধিনিষেধ উঠতেই হু হু করে বাড়ল রফতানি, ভাঙতে পারে অতীতের সব রেকর্ড!

বিশ্বজুড়ে চালের যোগানদাতা হিসেবে ফের নিজের শীর্ষস্থান মজবুত করল ভারত। সাম্প্রতিক সরকারি ও শিল্প খাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে ভারতের চাল রফতানি রেকর্ড ১৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার চাল রফতানির ওপর থেকে সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চালের দাম কমেছে, যা প্রতিযোগিতায় থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে।

পরিসংখ্যান যা চমকে দেবে

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের চাল রফতানি পৌঁছেছে ২১.৫৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে, যা আগের বছর ছিল মাত্র ১৮.০৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন।

  • নন-বাসমতি চাল: এর রফতানি ২৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫.১৫ মিলিয়ন টনে।

  • বাসমতি চাল: প্রিমিয়াম এই চালের রফতানি ৮ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৬.৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে।

  • বিশ্ব বাজারে প্রভাব: বর্তমানে ভারত একাই বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ চাল রফতানি নিয়ন্ত্রণ করছে। যা থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং পাকিস্তানের সম্মিলিত রফতানির চেয়েও বেশি।

স্বস্তিতে আফ্রিকা ও প্রতিবেশী দেশগুলি

সরকার রফতানি কর তুলে নেওয়ায় ভারতীয় চালের দাম গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দরিদ্র দেশগুলির জন্য খাদ্যসংকট মোকাবিলা করা সহজ হয়েছে।

  • প্রধান ক্রেতা দেশ: বাংলাদেশ, বেনিন, ক্যামেরুন, আইভরি কোস্ট এবং জিবুতির মতো দেশগুলি ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ নন-বাসমতি চাল কিনছে।

  • প্রিমিয়াম বাজার: ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) এবং ব্রিটেন বাসমতি চালের আমদানিতে জোয়ার এনেছে।

কেন এই জোয়ার?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর ভারতে চালের রেকর্ড উৎপাদন এবং সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকার কারণেই রফতানি নীতিতে এই ছাড় দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ওলাম এগ্রি ইন্ডিয়ার সহ-সভাপতি নীতিন গুপ্ত জানান, “প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে ভারত তার হারিয়ে যাওয়া বাজার পুনরায় দখল করতে সফল হয়েছে।”

ভারতের এই ‘চাল-নীতি’ কেবল দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে না, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ‘বিশ্ববন্ধু’ হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy