‘১ লক্ষ টাকা দিলেও মুসলিমরা আমাকে ভোট দেবে না’ অসমের ভোটের ধরন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য হিমন্ত বিশ্ব শর্মার!

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি ‘এজেন্ডা আজ তক ২০২৫’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের ভোটের ধরন এবং মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি প্রকল্প বা আর্থিক সুবিধা নয়, বরং আদর্শই রাজ্যের ভোটের ধরন নির্ধারণ করে।

‘সুবিধা নয়, আদর্শের জন্য ভোট’

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের মহিলা রোজগার যোজনার (যেখানে ২১ লক্ষ মহিলাকে ১০,০০০ টাকা দেওয়া হয়) মতো কোনও প্রকল্প অসমে আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন: “আমি এক লক্ষ টাকা দিলেও সমাজের একটি বড় অংশ আমাকে ভোট দেবে না। মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন ভোটার একবার আমার কাজের প্রশংসা করে বলেছিলেন যে প্রয়োজনে তিনি কিডনি দান করতেও প্রস্তুত। কিন্তু তিনি আমাকে কখনও ভোট দেবেন না। ভোট শুধুমাত্র প্রকল্প বা সরকারি সাহায্য দ্বারা নির্ধারিত হয় না, বরং আদর্শ দ্বারা নির্ধারিত হয়। মানুষ সুবিধার জন্য নয়, আদর্শের জন্য ভোট দেয়।”

তিনি যোগ করেন যে, শুধু প্রকল্প ঘোষণা করলেই ভোট নিশ্চিত হবে—এটা ভাবাটা ‘খুব সরল’ চিন্তা। জনগণের জন্য কাজ করা জরুরি হলেও, ভোটের জন্য এটিই একমাত্র নির্ণায়ক নয়।

৫০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা হলে কী হবে?

অসমের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, কয়েক দশক ধরে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে রাজ্যের আদিবাসী জনগণের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। তিনি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে জানান:

অসমে মুসলিম জনসংখ্যা: ১৯৬১ সাল থেকে ক্রমাগত ৪-৫ শতাংশ বৃদ্ধির হারে এই জনসংখ্যা ২০২১ সালে প্রায় ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে অনুমান করা হয়।

ভবিষ্যতের আশঙ্কা: তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে এটি ৪০ শতাংশে উন্নীত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, “মুসলিম জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে অন্যান্য সম্প্রদায় টিকে থাকতে পারবে না, শুধু তারাই থাকবে।”

যদিও তিনি বলেন যে, রাজ্যের ‘মিয়া মুসলিম’ (Miya Muslim) এবং মহিলাদের সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং মুসলিম ভোটাররা কংগ্রেসকে সমর্থন করলেও তাঁর সরকারই জিতবে।