দেশভাগের সেই ভয়ঙ্কর ক্ষত আজও তাড়া করে! লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বড় বার্তা মোদির

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে শুক্রবার দেশভাগের ভয়াবহ স্মৃতি রোমন্থন করে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের জেরে যাঁরা শিকার হয়েছিলেন এবং চরম দুর্দশার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাঁদের কথা এদিন বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন তিনি। দেশভাগের পরবর্তী দাঙ্গা ও ব্যাপক হিংসাত্মক ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের অসীম ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মোদি সরকার ২০২১ সাল থেকে ১৪ অগস্ট দিনটিকে ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ (Partition Horrors Remembrance Day) হিসেবে পালন করে আসছে।
এদিন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডেলে একটি আবেগঘন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আজ আমরা ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ পালন করছি। দেশভাগের ফলে যাঁরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তাঁদের সকলের সাহসিকতাকে আমরা স্মরণ করছি। ইতিহাসের সেই অন্ধকার মুহূর্তটি বহু মানুষের জীবন চিরতরে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল, বহু পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি ও প্রিয়জনদের হারিয়েছিল এবং অকথ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল মানুষকে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, সেই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও সাধারণ মানুষ শূন্য থেকে নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তুলেছিলেন। সমস্ত প্রতিকূলতাকে সাফল্যে পরিণত করে তাঁরা দেশের অগ্রগতিতে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তাঁর মতে, সেইসব মানুষদের অদম্য জীবনগাথা আজও দেশের প্রতিটি নাগরিককে নতুন করে লড়াই করার মানসিক শক্তির কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বিশেষ দিনটি যেন আমাদের দেশে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করে। ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat) গড়ার লক্ষ্যে আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে চলেছি।” তিনি দেশবাসীকে পারস্পরিক সদিচ্ছা এবং ঐক্যের জাতীয় চেতনাকে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, শনিবার দেশ জুড়ে অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হতে চলেছে। এই বিশেষ দিনে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার পাশাপাশি জাতির উদ্দেশে ঐতিহ্যবাহী ভাষণও দেবেন। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান যে, এবছর দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় লক্ষ লক্ষ ভারতবাসীকে দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত করা এই অমর সঙ্গীত ও তার গৌরবময় ঐতিহ্যকে যথাযথ শ্রদ্ধা জানিয়ে এবার প্রথমবারের মতো লালকেল্লায় এই গান গাওয়া হবে।
প্রতিরক্ষা সচিব আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় পৌঁছনোর পরই নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে। এর ঠিক পরেই তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন এবং লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে তাঁর সুদীর্ঘ ভাষণ রাখবেন। পাশাপাশি, ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর ও ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের তরুণ প্রজন্মের বিশেষ অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে এবারের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে ‘যুব শক্তি’কেও এক অনন্য ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।