‘ভারত নিরপেক্ষ নয়, শান্তির পক্ষে’ পুতিনের সামনেই ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মোদির কড়া বার্তা! হায়দরাবাদ হাউজে চূড়ান্ত কূটনৈতিক চাপ?

ভারতের অবস্থান যুদ্ধ নয়, সর্বদা শান্তির পক্ষে। শুক্রবার হায়দরাবাদ হাউজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সুস্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জোরালোভাবে বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান আলোচনার মাধ্যমে ও কূটনৈতিক পথেই হওয়া উচিত। ভারত শুরু থেকেই এই অবস্থানে অবিচল।

প্রধানমন্ত্রী মোদি রুশ প্রেসিডেন্টকে আশ্বাস দেন, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পথে যুদ্ধ থামাতে ভারত ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ কাজ করবে। বৈঠকের পর মোদি তাঁর মন্তব্যের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ পথে সমাধান হোক। আমরা এটাই চাই।” রুশ প্রেসিডেন্টও জানান, মস্কোও শান্তিপূর্ণ পথে যুদ্ধ শেষের চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি সবসময় বলেছি, ভারত নিরপেক্ষ নয়। ভারতের একটি অবস্থান আছে এবং সেটি শান্তির পক্ষে। আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার সবরকম প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাই। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশে রয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমার মনে হয়, বিশ্বাসের একটি উল্লেখযোগ্য শক্তি আছে। আমরা সবাই মিলে একটা শান্তির পথ ঠিক খুঁজে বের করব।”

মোদির আমন্ত্রণে পুতিন: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির পালাম সেনা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। লাল গালিচায় তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপর বন্ধুত্বের নজির সৃষ্টি করে পুতিন নিজের বুলেটপ্রুফ লিমুজিন ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি দুধসাদা ফরচুনার গাড়িতে সফর করেন। রাতে মোদির ৭ লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনে নৈশভোজ সারেন তিনি।

আজ সকালে রুশ প্রেসিডেন্ট রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধির সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানান এবং দর্শক খাতায় স্বাক্ষর করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। এরপর পুতিন ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে হায়দরাবাদ হাউজে আসেন।