সন্দেহের তালিকায় প্রথম থেকেই স্ত্রী! গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে বাঁচলেন বিকাশ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শ্যুটআউটের পর্দা ফাঁস করল পুলিশ

প্রকাশ্যে জনবহুল এলাকায় সরকারি কর্মীকে গুলি করার ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই নয়া মোড় আনল পুলিশ। বরানগর শ্যুটআউটের তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, এটি কোনো দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য নয়, বরং পরকীয়ার জেরে স্বামীকে সরানোর এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ বিকাশ মজুমদারের স্ত্রী, তাঁর প্রেমিক-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে বরানগর থানার পুলিশ।
ধৃতরা হলেন: বিকাশের স্ত্রী রেখা মজুমদার, তাঁর প্রেমিক পারদীপ দে, এবং দুই ভাড়াটে খুনি সুশান্ত আদক ও মহম্মদ শামিম লস্কর।
যেভাবে তৈরি হয়েছিল খুনের ব্লুপ্রিন্ট
পুলিশ সূত্রে খবর, সরকারি কর্মী বিকাশের স্ত্রী রেখা মজুমদার সম্প্রতি মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা পারদীপ দে-র সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধুত্ব পাতান। এই বন্ধুত্ব দ্রুত পরকীয়ার সম্পর্কে পরিণত হয়। একসময় দু’জনেই একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং তাঁদের পথের কাঁটা স্বামীকে সরানোর পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পারদীপ মেটিয়াবুরুজ এলাকার পরিচিত সুপারি কিলার সুশান্ত আদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সুশান্ত আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থেকে শামিম লস্করকে ভাড়া করে নিয়ে আসে। এর পরই বিকাশ মজুমদারকে খুনের ‘ব্লুপ্রিন্ট’ তৈরি হয়।
গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট, কিন্তু ধরা পড়ল সিসিটিভি-তে
পরিকল্পনা মতো, ২১ নভেম্বর নর্দান পার্ক এলাকায় রেইকি করার পর সুশান্ত ও শামিম বাইকে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মাথায় হেলমেট পরে তারা বিকাশ মজুমদারকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে সৌভাগ্যবশত, গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মাথা নিচু করে বসে পড়ায় প্রাণে বেঁচে যান বিকাশ। তবে গুলির ছিটকে জখম হন তিনি।
ব্যারাকপুর কমিশনারেটের এক পদস্থ কর্তা জানান, ঘটনার পর থেকেই বিকাশের স্ত্রীর ভূমিকা সন্দেহজনক ছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কথায় বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়ে। এরপর তিনি তাঁর স্বামীকে খুনের চেষ্টার কথা স্বীকার করেন।
৪৮ ঘণ্টায় রহস্য ভেদ
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে হেলমেট পরা দুই দুষ্কৃতীর বাইকে করে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পায়। সেই ফুটেজ এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে রেখা ও তাঁর প্রেমিক পারদীপকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে বাকি দুই ভাড়াটে খুনি সুশান্ত আদক ও শামিম লস্করকে ধরা হয়।
এই ঘটনায় এলাকায় শান্ত স্বভাবের বিকাশকে গুলি করা নিয়ে যে চর্চা শুরু হয়েছিল, এবং দিনের বেলায় প্রকাশ্যে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছিল, তার দ্রুত তদন্ত করে পুলিশ দ্রুত এই জাল গুটিয়ে আনল।
গ্রেফতার হওয়া চার অভিযুক্তকে রবিবার নিজেদের হেফাজতে নিতে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করেছে পুলিশ।