বলিউড ছাড়ছেন আমাল মালিক? ডিপ্রেশন ও পরিবারের সঙ্গে দূরত্বের গুঞ্জনের মাঝেই মুখ খুললেন বাবা ডাবু মালিক!

বলিউডের সঙ্গীত দুনিিয়ায় নিজের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও সুরেলা গলার জাদুতে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছেন জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক আমাল মালিক। একাধিক হিট গান উপহার দেওয়ার পরও গত কয়েক বছরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবারের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়টি বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে। এবার ছেলের কেরিয়ার থেকে আকস্মিক ছ’মাসের বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন তাঁর বাবা তথা বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক ডাবু মালিক। তাঁর সাফ কথা, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিরতি আমালের মানসিক প্রশান্তির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এটি তাঁর কেরিয়ারের একটি অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত।
গত কয়েকটা বছর আমালের জীবনে মোটেই সহজ বা মসৃণ ছিল না। পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারিবারিক ভাঙন এবং নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই—সব মিলিয়ে চরম মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এর আগে খোদ আমালই প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের শিকার ছিলেন। এমনকি সেই কঠিন ও অন্ধকার সময়ে তিনি সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছিলেন বলেও খবর ছড়ায়। একসময় পরিবারের সঙ্গে মানসিক দূরত্বের কথাও তিনি সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন। যদিও পরে সেই পোস্ট মুছে ফেলা হয়, তবুও তা নিয়ে বলিউড পাড়ায় ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়। আমাল জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অভিমান, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পরিবারের সঙ্গে মতবিরোধ একসময় সহ্যসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
পারিবারিক সমস্যার পাশাপাশি কেরিয়ারের ক্ষেত্রেও নিজের পরিচয় এবং অবস্থান নিয়ে একপ্রকার অস্বস্তিতে ভুগেছিলেন আমাল। এর আগে ডাবু মালিক জানিয়েছিলেন যে, পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে আমাল দীর্ঘদিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করলেও তাঁর প্রাপ্য খ্যাতি বা জনপ্রিয়তার আলো অনেক ক্ষেত্রেই অন্যদিকে চলে গিয়েছিল। বিশেষ করে ভাই আরমান মালিকের গায়ক হিসেবে বিপুল জনপ্রিয়তা আমালের মনে নিজের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে একধরনের হীনমন্যতা ও প্রশ্ন তৈরি করেছিল।
তবে একজন দায়িত্বশীল বাবা হিসেবে ডাবু মালিকের জোরালো উপলব্ধি, প্রতিটি মানুষের জীবনেই থামার একটা সময় প্রয়োজন। বিশেষ করে যখন দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ ও তীব্র আবেগ একজন শিল্পীর সৃজনশীলতাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়, তখন সাময়িক বিরতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই আমালের এই ছ’মাসের ব্রেককে কেরিয়ারে পিছিয়ে পড়া হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। বরং তাঁর মতে, এই সময়টা ছেলের নিজের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানো, মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে নতুন করে ছক কষার মোক্ষম সুযোগ। আমালের কঠিন ও সংগ্রামের দিনগুলিতে তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকার কথাও জানিয়েছেন ডাবু। ছেলের চরম অবসাদের সময় তিনি প্রতি মুহূর্তে পাশে ছিলেন। বাবা-ছেলের সম্পর্কেও সেই কঠিন সময় এক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করেন তিনি।