“২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদল!”-হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল সরকার বাধ্য হল সাহায্য নিতে

হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালে হু হু করে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এরমধ্যেই কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হলো নেপাল সরকার। প্রথমে বিপর্যয়ের পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের সাহায্য নিতে অস্বীকার করলেও, বহু বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকায় অবশেষে সীমিতভাবে হলেও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
গত বুধবার নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দেশের নিজস্ব উদ্ধারকারী দলই এই তল্লাশি অভিযানের জন্য সম্পূর্ণ সক্ষম। সেই কারণে কোনো বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। কিন্তু মাত্র একদিনের মধ্যেই সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে হলো কাঠমান্ডুকে। বিশেষ করে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধারকাজ, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার মতো জটিল বিষয়গুলিতে এবার বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার ছাড়পত্র দিচ্ছে নেপাল।
নেপাল সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-কে জানিয়েছেন, বন্যায় একাধিক বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। যার জেরে আন্তর্জাতিক মহলের তরফ থেকে প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালও। তিনি সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চিন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ এই বন্যার পর প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞের ক্ষেত্রে বিদেশি সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সাধারণ তল্লাশি ও উদ্ধারকার্যে বিদেশি কোনো সাহায্য নেওয়া হচ্ছে না।
শুক্রবার নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২,৫০০ মানুষ। এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের একটি কমিটি ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাহায্য নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এই চার দেশের বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদরা মূলত সুড়ঙ্গ উদ্ধার, ডিএনএ টেস্ট ও ফরেন্সিক পরীক্ষার কাজে হাত লাগাবেন। অন্যান্য দেশ থেকেও সাহায্য পাঠানোর প্রস্তাব এলেও নেপাল সরকার এখনও সব প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
ভারতের সহযোগিতার হাত
প্রতিবেশী দেশের এই বিপদের দিনে শুরু থেকেই ত্রাণের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল, মেডিক্যাল টিম এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফের সদস্য পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে।
ইতিমধ্যেই শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি নেপালকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী বোঝাই ভারতের তৃতীয় বিমানটি ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। ওই ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে পোর্টেবল জেনারেটর, ডিগনিটি কিট, শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং জরুরি জল পরিশোধনের ট্যাবলেট। এছাড়া ভারতের পাঠানো চতুর্থ দফার ত্রাণের সঙ্গে ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দলও নেপালে পৌঁছেছে, যার মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী বিশেষ বিশেষজ্ঞরা।