বেলডাঙ্গায় ‘নতুন বাবরি মসজিদ’ ঘোষণা ঘিরে এবার বিস্ফোরক ইমাম প্রধান! ‘পরিবেশ খারাপের ষড়যন্ত্র’ বলে তোপ দাগলেন ড. ইলিয়াসি

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় আগামী ৬ ডিসেম্বর ‘নতুন বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ঘোষণা ঘিরে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মীয় চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে। এই অনুষ্ঠানে ২ লক্ষ লোক জড়ো হওয়ার যে দাবি বিধায়ক করেছিলেন, তা নিয়েই এবার মুখ খুলেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতা, ভারতের এমাম প্রধান ড. ইলিয়াসি (Dr. Ilyasi)।
ড. ইলিয়াসি এই ঘোষণাকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে এর নেপথ্যে ‘দেশের পরিবেশ আবার খারাপ করার ষড়যন্ত্র’ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন।
⚠️ ইমাম প্রধানের আশঙ্কা ও গুরুতর অভিযোগ
তৃণমূল নেতার মন্তব্য প্রসঙ্গে ড. ইলিয়াসি তাঁর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন:
তদন্তের দাবি: “আমার মনে হচ্ছে দেশের পরিবেশ আবার খারাপ করার ষড়যন্ত্র চলছে। এটা তদন্তের বিষয়।” তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য দেশের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।
বাইরের প্রভাব: ইলিয়াসি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, এই মন্তব্যের নেপথ্যে বাইরের প্রভাবও থাকতে পারে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও বলেন, “বাংলাদেশ একদম পাশেই। আমি সন্দেহ করছি, এই বিষয়টা সেখান থেকেই উসকে দেওয়া হচ্ছে কিনা। সরকার ও তদন্তকারী সংস্থার উচিত খুঁটিয়ে দেখা।”
❓ প্রশ্নের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের নীরবতা
সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যটি করেছেন ইলিয়াসি সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন:
“তিনি তো তৃণমূলের বিধায়ক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি তো শিলান্যাস করতে চান, তাহলে মমতা ব্যানার্জি কি সেই মসজিদে নামাজ পড়তে যাবেন? তিনি কি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে যাবেন?”
ইমাম প্রধান ইলিয়াসি তৃণমূল কংগ্রেসের এই পুরো বিষয়ে নীরবতা নিয়েও আশ্চর্যান্বিত। তিনি সরাসরি রাজ্য সরকারকে প্রশ্ন করেছেন যে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক বিবাদের কালে তারা নীরব কেন— শুধুই একজন নেতাকে খুশি করতে, নাকি ভোট ব্যাঙ্ককে অক্ষুণ্ণ রাখতে। তিনি আশঙ্কা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি এই সময়ে নীরবতা পালন করেন, তবে এই বিষ বৃক্ষের ফল তাকেই খেতে হবে।
📊 রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশেষজ্ঞদের মত
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধর্মীয় বিতর্ক ভোটের আগে অনুপ্রবেশ ইস্যু এবং ধর্মীয় মেরুকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, যা বিজেপি শিবিরকে রাজনৈতিক স্বস্তি দিতে পারে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও দলীয় সূত্রের দাবি, হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশ ইস্যু দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ধর্মীয় আবেগ এবং রাজনৈতিক কৌশল মিশে গেলে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি এটাই স্পষ্ট করছে যে, ভোটের আগে অবৈধ অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং ধর্মীয় বিতর্ক— সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ দ্রুত বাড়ছে, যা আগামী নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।