শিলিগুড়িতে রাজ্য টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে চরম অব্যবস্থা, সার্ভিস বিতর্ক, ৮ ঘণ্টা বিলম্বে ম্যাচ ও আর্থিক লোকসান

কয়েক দশক পর শিলিগুড়িতে বিপুল আশা জাগিয়ে শুরু হওয়া ভারতী ঘোষ মেমোরিয়াল সারা বাংলা টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ এখন পরিকাঠামোগত অব্যবস্থা ও বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে, বিশেষত উইমেনস অনূর্ধ্ব-১৫ সেমিফাইনালে একটি বিতর্কিত সার্ভিস নিয়ে গণ্ডগোল শুরু হলে টুর্নামেন্টজুড়ে চরম অব্যবস্থার চিত্র সামনে আসে।
১. বিতর্কিত সার্ভিস ও রেফারির মন্তব্য
শনিবার অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েদের সেমিফাইনালে শিলিগুড়ি ও উত্তর ২৪ পরগনার ম্যাচের সময় একটি সার্ভিসে নেটে বল লাগা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। উত্তর ২৪ পরগনার প্যাডলার সার্ভিস নেটে ছোঁয়ার অভিযোগ করলেও রেফারি তা মানতে রাজি হননি এবং পয়েন্ট শিলিগুড়ির ঝুলিতে যায়।
এই বিষয়ে মুখ্য রেফারি অরুন্ধতী ব্রহ্মচারী মন্তব্য করেন:
“রেফারিও মানুষ। ভুল মানুষ মাত্রই হয়। ক্রিকেটেও তো সচিন তেন্ডুলকরকে ভুল আউটের শিকার হতে দেখেছি আমরা। আমাকে আম্পায়ার যে রিপোর্ট দেবেন সেইমতো সিদ্ধান্ত নেব।”
তিনি আরও বলেন, এত বেশি প্রতিযোগী অংশ নেওয়ায় সব ম্যাচ সময়ে শেষ হবে এমনটা বলা যায় না।
২. পরিকাঠামোগত দুর্বলতা ও ম্যাচ দেরির অভিযোগ
সাধারণত ১২টি বোর্ডে রাজ্য টিটি চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজিত হলেও শিলিগুড়ি পুরনিগমের ইনডোর স্টেডিয়ামে মাত্র ১০টি বোর্ডে খেলা চলায় শুরু থেকেই সূচি মেনে ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।
সময় বিলম্ব: প্রতিদিন ম্যাচ শুরু হচ্ছে প্রায় চার ঘণ্টা বিলম্বে, যা শনিবার বেড়ে দাঁড়ায় আট ঘণ্টায়।
বিশ্রামের অভাব: যে প্যাডলাররা প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত খেলছেন, পরবর্তী দিন তাঁদের বেলা ১১টায় ফের ম্যাচ দেওয়া হচ্ছে।
টিকেট বাতিল: বেঙ্গল স্টেট টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্মসচিব রজত দাস সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার দাবি করলেও, একাধিক জুনিয়র প্যাডলার এবং তাঁদের অভিভাবকদের ট্রেনের টিকিট বাতিল করতে হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
উপযুক্ত আম্পায়ারের অভাব এবং পরিকাঠামোগত ত্রুটির কারণে আয়োজকদের এই অর্থদণ্ড দিতে হয়েছে। প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় দল উত্তর ২৪ পরগনা-সহ প্রায় ১১০০ দক্ষিণবঙ্গের প্রতিযোগী এই অব্যবস্থার শিকার হচ্ছেন।
টুর্নামেন্টের দলগত খেলা শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শনিবারও শেষ করা যায়নি। ব্যক্তিগত ইভেন্ট শুরু হলে সমস্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ অংশগ্রহণকারী প্যাডলার এবং তাঁদের অভিভাবকরা ইতিমধ্যেই সুর চড়াতে শুরু করেছেন।