নদিয়ার সীমান্তে গুলির লড়াইয়ে ব্যর্থ ময়ূর পাচার, পুরুলিয়ার জঙ্গলে ঠাঁই পেল ১১টি ময়ূর

বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী পাচারের বড় একটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দিল বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচারের ঠিক আগের মুহূর্তে বিএসএফের ৩২ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের জওয়ানরা ১১টি ময়ূর উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া জাতীয় পাখিগুলিকে বনদফতরের মাধ্যমে পুরুলিয়ার জঙ্গলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গুলির লড়াই ও পাচারকারীদের পিছু হটা
বিএসএফ সূত্রে খবর, শনিবার গভীর রাতে কয়েকজন পাচারকারী তিনটি প্যাকেট নিয়ে কাঁটাতারের ওপারে অর্থাৎ বাংলাদেশের দিকে ছুঁড়ে ফেলার চেষ্টা করছিল। কর্তব্যরত জওয়ান বিষয়টি নজরে এনে তৎক্ষণাৎ অন্যদের খবর দেন।
ঠিক সেই সময় বাংলাদেশের দিক থেকে কয়েকজন পাচারকারী অন্ধকারের মধ্যে ওই প্যাকেটগুলোর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। বিএসএফ জওয়ানরা এগিয়ে গেলে ধারালো অস্ত্র হাতে পাচারকারীরা তাঁদের দিকে ধেয়ে আসে। বিএসএফের দাবি, পাচারকারীরা বিএসএফকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও ছোঁড়ে। আত্মরক্ষার জন্য জওয়ানরাও পাল্টা দু’রাউন্ড গুলি ছোঁড়েন। এতে ভয় পেয়ে বাংলাদেশের পাচারকারীরা পিছু হটে অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
পাচারকারীরা সরে গেলে বিএসএফ প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে এবং সেগুলোর ভেতর থেকে ময়ূরগুলি পাওয়া যায়। জওয়ানদের কড়া পাহারার ফলেই লক্ষ লক্ষ টাকার মূল্যের এই ময়ূর পাচার রোখা সম্ভব হয়েছে বলে বিএসএফ দাবি করেছে। যদিও কোনো পাচারকারীকে আটক করা যায়নি।
ময়ূর উদ্ধারে তুঙ্গে রাজনীতি: তৃণমূল-বিজেপি তরজা
ময়ূর উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে সীমান্তে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর।
বিজেপি নেতা সোমনাথ কর বিএসএফের এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটা বিএসএফের আরও একটি সাফল্য। সীমান্তবর্তী এলাকায় যেসব চোরাচালানকারী রয়েছে, খোঁজ নিলে দেখা যাবে তাদের সঙ্গে কোনও না কোনও তৃণমূল নেতা যুক্ত রয়েছে। বাংলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দালালে ভরে গিয়েছে, আর এই দালাল চক্রের মদত দিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।”
পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি তৃণমূল নেতা সনৎ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “বিএসএফ ময়ূর উদ্ধার করেছে, এটাই ওদের কাজ। সীমান্তে দায়িত্বে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিরাপত্তা বাহিনীরা। সেখানে যদি চোরাচালানকারীরা ব্যবসা চালায়, তাহলে সেই দায়ভার বিএসএফের উপরই পড়বে।”
বিএসএফ এই ময়ূরগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কোথায় পাচার হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক পাচার চক্র জড়িত কিনা তা তদন্ত করে দেখছে।