“বাংলাকে গুজরাট হতে দিলেন না মমতা”- FDI ও অর্থনৈতিক পতন নিয়ে বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য

টানা ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় বাংলায় উল্লেখযোগ্য শিল্পায়ন না হওয়া এবং রাজ্য অর্থনীতির তলানিতে যাওয়ার ইস্যুতে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই ১৫ বছরের জমানায় বাংলার শিল্পকে ‘গলা টিপে খুন’ করা হয়েছে। তিনি ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানের তুলনা: ‘লজ্জাজনক ধস’

 

শমীক ভট্টাচার্য তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে পরিসংখ্যানের তুলনা টেনে বলেন:

ক্ষেত্র১৯৫০-৫১ সালে দেশের মোট অবদান২০২১-২২ সালে দেশের মোট অবদানমন্তব্য
শিল্প উৎপাদন২৪%৩.৫%“লজ্জাজনক ধস”
ব্যাংকিং লেনদেন১৯৫৫ সালে ২৮%২০২৪ সালে ৬%“অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ”

তিনি আরও জানান, একসময় বাংলায় ১০১টি জুটমিল ছিল, ১৯৬০-৬১ সালে যার উৎপাদন ছিল ৯ লক্ষ MT, কিন্তু ২০২৫ সালে তা ৭ লক্ষ MT-এ এসে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মন্তব্য: “হুগলির বহু জুটমিল আজ তালাবন্ধ। অন্ধকারে ডুবে আছে আজকের শ্রমিকেরা।”

FDI-তে চরম পতন এবং ‘রাজনৈতিক জেদ’

 

বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) প্রসঙ্গে তিনি আরও কড়া সমালোচনা করেন:

সময়কালপশ্চিমবঙ্গে FDI-এর অবদান
১৯৯১ সালে১২% (দেশজুড়ে প্রথম)
২০২৩-২৪ সালে১%-এর নিচে
২০১৯-২০২৪ (৫ বছরে)মোট FDI মাত্র ০.৬৬%

একই সময়ে মহারাষ্ট্র ৩১% এবং গুজরাট ১৬.৫% FDI অর্জন করেছে। এই তুলনার ভিত্তিতে শমীক ভট্টাচার্যের তোপ: “মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক জেদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ গুজরাত হতে পারেনি। জনপ্রিয়তার রাজনীতিতে তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন।”

শিল্প না হওয়ার কারণ

 

অভিযোগের পাশাপাশি রাজ্যে শিল্প না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বেশ কিছু বিষয়কে দায়ী করেছেন:

  • শিক্ষিত কর্মসংস্থানহীন যুবক সংখ্যা বৃদ্ধি

  • সরকারি নীতি-অনিশ্চয়তা এবং ভূমি নীতি

  • দুর্নীতি এবং দলীয় সিন্ডিকেট

তাঁর কটাক্ষ, “তৃণমূল সরকার স্লোগান দিতে জানে, সেলফি তুলতে জানে, ভিডিও বানাতে জানে কিন্তু শিল্প আনতে জানে না।”

বর্তমানে একদিকে শিল্পবিনাশ, আর্থিক পতন ও কর্মসংস্থানের সংকটের অভিযোগে বিরোধী শিবির সরব। অন্যদিকে তৃণমূল সরকার এই সমালোচনা ভিত্তিহীন বলে পাল্টা দাবি করে শিল্পায়ন চলছে বলে জানাচ্ছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও রাজনীতির দ্বন্দ্বে ভবিষ্যতের দিশা খুঁজছে বাংলা।