গ্রীষ্মে চরম সংকট, আর্সেনিক যুক্ত জল পান করা বারণ, পাশের গ্রামে ছুটছেন ৪০০ গ্রামবাসী, ‘দ্রুত জল চাই’, আর্জি বাসিন্দাদের

কেন্দ্রীয় সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’-এর অধীনে বাঁকুড়া-১ ব্লকের আঁচুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কেরানিপুর গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যেই কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে গ্রামে তৈরি হয়েছে জলের ট্যাঙ্ক, বসেছে নলকূপ এবং প্রতিটি বাড়ির সামনেও সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু, সাড়ে তিন বছর কেটে গেলেও গ্রামের প্রায় ৪০০ জন বাসিন্দার কোনও বাড়িতেই এখনও পর্যন্ত এক ফোঁটা জল পৌঁছায়নি!
এই পরিস্থিতিতে চরম সংকটে পড়েছেন প্রায় ৪০টি পরিবারের মানুষ। গ্রামের একটিমাত্র টিউবওয়েলের জলে আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকায় সেই জল পান করা যায় না। তাই সারাবছরই তাদের যেতে হয় পাশের গ্রামে। বিশেষত গ্রীষ্মকালে এই সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে।
কেরানিপুরের বাসিন্দা শান্তি রায় বলেন, “সাড়ে তিন বছর ধরে পড়ে রয়েছে। জল আসেনি। একটা নলকূপের ভরসা। গরমের সময় মারাত্মক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। পঞ্চায়েত থেকে বিধায়ক সকলকে জানিয়েছি। কোনো সুরাহা হয়নি।” আরেক বাসিন্দা গুণধর রায়ের দাবি, “বাড়ি বাড়ি জল আসবে ভেবেছিলাম। তিন বছরেও কিছু হলো না। আমরা চাই দ্রুত বাড়িতে বাড়িতে পানীয় জল আনার ব্যবস্থা করা হোক।”
জল-সমস্যা নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
বাঁকুড়ার মতো প্রান্তিক জেলাগুলিতে ভোটের আগে জল-সমস্যা সমাধান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিশ্রুতি দেখা গেলেও ভোটের পর সেই কষ্ট লাঘব হয় না। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে কেরানিপুর গ্রামের জল-সমস্যা নিয়ে শুরু হয়েছে শাসকদল ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র তরজা।
তৃণমূলের অভিযোগ: বাঁকুড়া-১ ব্লকের সভাপতি অংশুমান বন্দ্যোপাধ্যায় দায় চাপিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের ঘাড়ে। তাঁর দাবি, “কেন্দ্রীয় সরকার জল জীবন মিশনের টাকা আটকে রেখেছে। সেই কারণেই বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া যায়নি।” এখন বিকল্প হিসেবে জনস্বাস্থ্য কারিগরী দফতরের হাতে প্রকল্প হস্তান্তরের পরিকল্পনা চলছে।
বিজেপির অভিযোগ: বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দিতে এই প্রকল্প তৈরি করেছে। এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূলের চাপে পড়ে সরকারি আধিকারিকেরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না।
প্রশাসনের আশ্বাস, হবে দ্রুত সমাধান
বাঁকুড়া-১ ব্লকের বিডিও ঋতুপর্ণা চট্টোপাধ্যায় কেরানিপুর গ্রামের জলের সমস্যা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, “বিষয়টি শুনেছি। আমরা খতিয়ে দেখছি। জনস্বাস্থ্য কারিগরী দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করা যায় যে শীঘ্রই সমস্যার সমাধান করা যাবে।”