পর্যটনে ভাটা! মূর্তি নদীর ধারে নেই হাঁটার জায়গা, অথচ এখন খাঁ খাঁ করছে জনপ্রিয় স্পট, ‘এসআইআর-এর কারণে’ বাইরে যাচ্ছেন না মানুষ?

শীতকাল মানেই ডুয়ার্স জুড়ে উৎসবের মেজাজ, পর্যটকের ঢল। কিন্তু এই বছর সেই পরিচিত দৃশ্য উধাও। ডিসেম্বরের শুরুতেই যে গরুমারা, চাপড়ামারি, মূর্তির মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলি লোকে লোকারণ্য থাকে, সেখানে এখন চলছে শুনশান নীরবতা। বিশেষত মূর্তির নদী ধারে বিকেলে যেখানে পা ফেলার জায়গা থাকত না, সেখানে এখন যেন খাঁ খাঁ করছে। পর্যটন মহলের মতে, এই অস্বাভাবিক পর্যটক ভাটার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে চলমান এসআইআর (Systematic Acquisition of Records) কার্যক্রম।
‘এসআইআর’-এর ধাক্কা
পর্যটন ব্যবসায়ীদের ধারণা, এই মুহূর্তে রাজ্য জুড়ে এসআইআর-এর কাজ চলছে। বিএলও (Booth Level Officer)-রা ফর্ম দিতে এবং জমা নিতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজ যাতে কোনোভাবেই হাতছাড়া না হয়, সেই কারণেই বহু সাধারণ মানুষ শীতের ছুটিতে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছেন।
এছাড়া স্কুলের চলতি সেমিস্টার পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজের কারণেও বহু পরিবার ভ্রমণ স্থগিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জীবিকার সঙ্কটে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা
এই অস্বাভাবিক ভাটার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে পর্যটন-নির্ভর জীবিকায়। জিপসি চালক, গাইড, রিসর্ট কর্মী এবং স্থানীয় দোকানদার— সবার মুখেই এখন উদ্বেগের ছাপ।
জিপসি চালক: মূর্তি এলাকার এক জিপসি চালক জানান, “এই সময় সাধারণত দিনে ১০-১২টা গাড়ি বুকিং থাকে। কিন্তু এখন ৩-৪টে গাড়িও ভরছে না। খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
গাইড ও দোকানদার: ট্যুরিস্ট না থাকায় গাইডের আয় বন্ধ। অন্যদিকে, পর্যটকের অভাবে খাবারদাবার ও জিনিসপত্র বিক্রি কমে যাওয়ায় দোকানদারদের সংসারেও টান পড়েছে।
ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক বছরে শীতের মরশুমের শুরুতে এমন পরিস্থিতি তাঁরা দেখেননি। এই অস্বাভাবিক শূন্যতা তাঁদের জন্য বড় ধাক্কা।
তবে ডুয়ার্সবাসী এখনও আশাবাদী। তাঁরা এখন তাকিয়ে আছেন বড়দিন (Christmas) ও নববর্ষের (New Year) ছুটির দিকে। তাঁরা আশা করছেন, সেই সময় পর্যটকের ঢল নামবে এবং ব্যবসার ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া যাবে।