আর্ট অফ ছৌ, টেক অফ ই-কমার্স! ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন মার্কেটিং শিখছেন ছৌ-শিল্পীরা, তাদের তৈরি মুখোশ এবার আপনার দোরগোড়ায়

জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী ছৌ-মুখোশের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে পুরুলিয়ার চড়িদা গ্রাম। এই শিল্পে পুরুষদের পাশাপাশি গ্রামের মহিলারাও সমানভাবে যুক্ত। সংসার সামলে বেশিরভাগ সময় তারা মুখোশ তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন। এই মহিলাদের উদ্যোগ ও পরিশ্রমকে সম্মান জানাতে সম্প্রতি চড়িদা গ্রামে একটি বেসরকারি ফাউন্ডেশন ও একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্রের সহযোগিতায় মহিলা উদ্যোক্তা দিবস পালন করা হলো।
এই সম্মান পেয়ে শিল্পীরা অত্যন্ত খুশি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত মহিলারা তাঁদের জীবন সংগ্রাম, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নকশা পরিবর্তনের পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
আধুনিক ব্যবসায়িক দক্ষতা ও ডিজিটাল জ্ঞান
এই ফাউন্ডেশন এখন চড়িদা গ্রামের মহিলাদের আধুনিক ব্যবসায়িক দক্ষতা এবং ডিজিটাল জ্ঞান অর্জনের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল বিষয়গুলি হলো:
অনলাইন মার্কেটিং ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার: বিশ্বজুড়ে নিজেদের পণ্যকে তুলে ধরার কৌশল।
ডিজিটাল পেমেন্ট: লেনদেনকে আরও সহজ ও সুরক্ষিত করা।
ই-কমার্স প্লাটফর্মে পণ্য বিক্রি: ঘরে বসেই বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া।
মহিলা ছৌ মুখোশ শিল্পীরা জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁরা প্রতিনিয়ত জানতে পারছেন কীভাবে তাঁদের হাতে তৈরি শিল্পকর্ম সকলের কাছে পৌঁছে যাবে। তাঁদের মতে, এতে তাঁদের অনেকটাই উপকার হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এলাকার অন্যান্য মহিলারাও যাতে এই ভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই বার্তা দিচ্ছেন তাঁরা।
আত্মনির্ভরতার প্রতীক ছৌ-মুখোশ
ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মুকেশ দাস বলেন, তাঁদের মূল লক্ষ্যই হলো মহিলাদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ প্রশস্ত করে দেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের সংস্থা চাইছে এই মহিলাদের কাজকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং তাদের কাজকে ডিজিটালি সকলের কাছে পৌঁছে দিতে। চড়িদা গ্রামে তৈরি হওয়া মুখোশ শুধু পুরুলিয়ার ঐতিহ্য নয়, এটি তাঁদের আত্মনির্ভরতার প্রতীক।”
এই ডিজিটাল সহায়তার ফলে চড়িদার শিল্পীরা আগামীদিনে আরও বড় বাজার পাবে এবং এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিল্প বিশ্বজুড়ে আরও বেশি করে প্রসার লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।