দীর্ঘদিনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতেই চড়াও গ্রাহকরা! হিঙ্গলগঞ্জে ধুন্ধুমার, পালাল ৩ অভিযুক্ত।

উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়কে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলো। বকেয়া সংগ্রহ এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে গ্রাহকদের মারধরের শিকার হলেন বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা। এই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তবে মূল অভিযুক্ত-সহ আরও তিনজন এখনও পলাতক।
ঘটনার সূত্রপাত:
হিঙ্গলগঞ্জের গোবিন্দকাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করছিলেন না। বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে জানা যায়, কর্মীদের পক্ষ থেকে বারবার বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল এবং মাইকিং করেও দফতরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও অভিযুক্ত গ্রাহকরা সাড়া দেননি।
মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ:
বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা বকেয়া আদায় এবং প্রয়োজনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ওই এলাকায় পৌঁছন। এরপরেই অভিযুক্ত গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মীদের তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ, সুশান্ত সরকার, নেপাল সরকার, গোপাল সরকার ও রাকেশ গায়েন নামে চারজন গ্রাহক বিদ্যুৎ কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এরপর তাঁরা কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন এবং তাঁদের মোবাইল ফোনও ভেঙে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও কর্মীদের দাবি:
খবর পেয়ে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্যুৎ দফতরের পক্ষ থেকে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে নেপাল সরকারকে গ্রেফতার করেছে। তাঁকে এদিন বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বাকি তিনজন অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক।
এই হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা। তাঁদের দাবি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো কর্মীকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।