ক্যামেরা নয়, মানুষের চোখই সেরা সেন্সর! মৎস্য-৬০০০ অভিযানের গুরুত্ব বোঝালেন বিজ্ঞানীরা, যা প্রকৃত আবিষ্কারের পথ খুলবে

ভারত এবার গভীর সমুদ্রের রহস্য উন্মোচনে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মহাকাশ জয়ের পর এবার মহাসাগরের তলদেশে মানববাহী অভিযান পরিচালনার পথে হাঁটছে দেশ। আগামী বছরের শুরুতেই চেন্নাই উপকূল থেকে প্রথমবার সমুদ্রে নামতে চলেছে ২৮ টন ওজনের সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মনুষ্যবাহী ডুবোজাহাজ ‘মৎস্য-৬০০০’ (Matsya 6000)।

এই অভিযানটি ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী গভীর মহাসাগর মিশন (Deep Ocean Mission)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথম ধাপে ৫০০ মিটার গভীরে নিয়ে যাওয়া হলেও, চূড়ান্ত লক্ষ্য হল ৬,০০০ মিটার বা প্রায় ৬ কিলোমিটার গভীরে পৌঁছানো।

অ্যাকোনাটদের হাতে দেশের ভাগ্য
এই ঐতিহাসিক মিশনে ডুবোজাহাজটি পরিচালনা করবেন দুই অভিজ্ঞ ভারতীয় অ্যাকোনাট— রমেশ রাজু এবং যতিন্দর পাল সিং।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওশান টেকনোলজি (NIOT)-এর পরিচালক বালাজি রামকৃষ্ণান জানিয়েছেন, “এখন পর্যন্ত ভারত গভীর সমুদ্রে শুধুমাত্র রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকেলস (ROV) পাঠিয়েছে। এবার মানুষ সরাসরি এই অভিযানে অংশ নেবে। আমাদের পরিকল্পনা ৬,০০০ মিটার গভীরতায় যাওয়া, তাই নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মিশনের সবচেয়ে বড় ধাপ হল মৎস্য-৬০০০।”

কেন প্রয়োজন মানুষ? ক্যামেরার চেয়েও শক্তিশালী ‘মানুষের চোখ’
প্রকল্পের পরিচালক সাথিয়া নারায়ণন এই অভিযানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, গভীর সমুদ্রের গবেষণার ক্ষেত্রে ‘মানুষের চোখের চেয়ে ভালো সেন্সর আর নেই’।

“গভীর সমুদ্রের পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্লেষণ করে মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, যা প্রকৃত আবিষ্কারের পথ খুলে দেয়। এই বুদ্ধি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ক্যামেরার ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি—যা এই অভিযানের গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।”

প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ জয় করে স্ব-নির্ভর ভারত
এই প্রযুক্তি সহজে আসেনি। প্রথমে ভারত বৈশ্বিক দরপত্রের মাধ্যমে এই ধরনের ডুবোজাহাজ প্রযুক্তি কেনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি দু’বার ভারতের দরপত্র প্রত্যাখ্যান করে প্রযুক্তি দিতে অস্বীকার করে। এরপরই কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয়ভাবে এই ডুবোজাহাজ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

NIOT বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১,০০০ মিটার পর্যন্ত গভীরে যাওয়ার প্রযুক্তি আগে থেকেই দেশে ছিল। কিন্তু ৬,০০০ মিটারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ISRO, DRDO এবং CSIR-এর মতো ভারতের প্রধান বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

‘মৎস্য-৬০০০’ মিশনের সফল উৎক্ষেপণের পর ভারত বিশ্বের সেই এলিট দেশগুলির তালিকায় যুক্ত হবে, যারা গভীর সমুদ্রে মানববাহী অভিযান পরিচালনায় সক্ষম।