বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর! মুখ্যসচিবের সরকারি ফোনে ‘প্রতিদিন’ মমতার সঙ্গে কথা বলছেন অতিরিক্ত CEO, চাঞ্চল্য কমিশনে

আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্য সফররত নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদলের সামনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার মধ্যে সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগটি হলো—রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Additional CEO) অরুণ প্রসাদ নাকি মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের সরকারি ফোন ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিন কথা বলছেন!
শুক্রবার রাজ্যে ইভিএমের ফার্স্ট লেভেল চেকিং (FLC) কর্মশালায় উপস্থিত কমিশনের প্রতিনিধিদলের হাতে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অভিযোগ সংক্রান্ত ‘প্রমাণ’ তুলে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
শুভেন্দুর অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু:
১. মুখ্যমন্ত্রী-অতিরিক্ত CEO যোগাযোগ: শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি প্রায় প্রতিদিন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরুণ প্রসাদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং এর জন্য মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের সরকারি ফোন ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের দিনেও অরুণ প্রসাদ প্রায় ২০ মিনিট মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
২. ভোটার তালিকায় অনিয়ম: বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন যে, ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং প্রশাসনের একাংশ সেই নামগুলি বাদ দিতে অনীহা দেখাচ্ছে।
৩. হিন্দু শরণার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি: একই সঙ্গে তিনি দাবি তোলেন, কমিশনকে অবিলম্বে হিন্দু শরণার্থীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৪. এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার অনিয়ম: বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (Special Intensive Revision – SIR) চলাকালীন অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। এর আগে বিজেপি মোট ৬৭ জন বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছিল। কেন এখনও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও কমিশনের কাছে তুলেছে গেরুয়া শিবির।
কমিশন ও রাজ্য দপ্তরের অবস্থান
বর্তমানে চার দিনের সফরে রাজ্যে রয়েছেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার ডিইও (DEO) ও ইআরও (ERO)-দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
রাজ্য নির্বাচনী দপ্তর এই অভিযোগ নিয়ে আপাতত নীরব। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীকে জড়িয়ে অভিযোগটি সরাসরি কমিশনের কাছে জমা পড়ায় রাজ্য দপ্তর কোনো মন্তব্য করবে না। সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে, এই অবস্থানে রয়েছে তারা।
অন্যদিকে, কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্যের নির্বাচনী প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনার মাঝে বিরোধী দলনেতার এমন বিস্ফোরক অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।