শীতের শুরুতেই ছন্দপতন! বঙ্গোপসাগরে জন্ম নিল ‘বিপজ্জনক’ নিম্নচাপ, ফের উধাও হবে হিমেল আমেজ?

বাঙালির শীত উপভোগের পথে কাঁটা বিছিয়ে দিল দক্ষিণ–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নতুন নিম্নচাপ। শ্রীলঙ্কা ও তামিলনাড়ুর মাঝামাঝি এলাকায় এই ঘূর্ণাবর্ত ঘনীভূত হওয়ায় নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সবেমাত্র যে হিমেল আমেজ রাজ্যে প্রবেশ করছিল, তাতে ফের বাধা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, দক্ষিণ–পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩.১ কিলোমিটার উঁচুতে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। আগামী শনিবার দক্ষিণ–পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে আগামী সোমবার নাগাদ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের কেন্দ্রীয় অংশে পৌঁছতে পারে এবং গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় এটি আরও শক্তিশালী হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হবে। মূলত এই নিম্নচাপের প্রভাব পড়বে তামিলনাড়ু-সহ একাধিক দক্ষিণের রাজ্যে।
এই নিম্নচাপ সরাসরি বাংলায় ঝড়-বৃষ্টি না ঘটালেও, রাজ্যের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনবে। উত্তর–পশ্চিম ভারত থেকে বঙ্গে প্রবেশ করা শীতল বাতাসের গতিপথ বদলে দিয়েছে পূবালী হাওয়া। এই পূবালী হাওয়া প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বয়ে আনছে, যার ফলে বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ছে এবং রাতের তাপমাত্রা ফের বাড়তে শুরু করেছে।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ দিনের মধ্যে রাজ্যের জেলাগুলিতে ন্যূনতম তাপমাত্রা (রাত্রিকালীন তাপমাত্রা) প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী ৩ দিনে তাপমাত্রার কোনও বড় পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ, স্বাভাবিকের নীচে নেমে যাওয়া পারদ আবার স্বাভাবিকের কাছাকাছি ফিরে আসবে। মূলত, শীতের আমেজ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই তা উধাও হওয়ার জন্য এই নিম্নচাপকেই দায়ী করা হচ্ছে।
আগামী এক সপ্তাহে রাজ্যের কোথাও বৃষ্টির বড় কোনও সতর্কবার্তা নেই, আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। কলকাতার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে যথাক্রমে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ১৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে শুক্রবার থেকে শনিবার দার্জিলিঙের দু’এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।