৮১৫ কোটি টাকার ‘গোপন অস্ত্র’ হাতে! সীমান্ত সুরক্ষায় রাতারাতি বড় চাল ভারতের, কেন জরুরি এই চুক্তি?

অপারেশন সিন্দুর’-এর পর সীমান্তে জটিল পরিস্থিতি ও শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের যে জরুরি প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল, সেই উদ্যোগেই অবশেষে বড় সাফল্য পেল ভারত। মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র (Indian Missile System) ও গোলাবারুদ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। মোট চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৮১৫ কোটিরও বেশি!

সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক ভারত-পাক সংঘর্ষের সময় ব্যবহৃত গোলাবারুদের ভান্ডার পূরণ করা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করাই ছিল ভারতের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি, শত্রুপক্ষের ট্যাংক আক্রমণ প্রতিহত করার সামর্থ্য বাড়ানোও ছিল অপরিহার্য। সেই কারণেই আমেরিকার কাছে জাভেলিন (Javelin) অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইলসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক নির্ভুল অস্ত্রের অনুরোধ জানায় দিল্লি। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই অনুমোদন সীমান্ত নিরাপত্তা আরও মজবুত করার পথ খুলে দিল।

জাভেলিন বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ট্যাংক-বিধ্বংসী অস্ত্রব্যবস্থা। এটি ‘ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট’ প্রযুক্তি সমৃদ্ধ—অর্থাৎ একবার লক্ষ্যবস্তু লক করে দিলে এটি নিজস্ব ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করে। ট্যাংক, সশস্ত্র যান, কংক্রিট বাংকার বা অন্যান্য সুরক্ষিত কাঠামো ধ্বংস করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে বা রাতের অন্ধকারেও এর কার্যকারিতা প্রায় অনস্বীকার্য। বিশেষ করে লাদাখ অঞ্চলে চীনা সেনার সঙ্গে উত্তেজনার আবহে জাভেলিনের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভূত হয়েছিল।

এই চুক্তির আওতায় ভারত মোট ১০০টি এফজিএম-১৪৮ জাভেলিন রাউন্ড, একটি জাভেলিন এফজিএম-১৪৮ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি জাভেলিন লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট (LwCLU) পাচ্ছে। এই উন্নত কমান্ড লঞ্চ ইউনিট দিন ও রাতে, সব পরিস্থিতিতেই লক্ষ্য চিহ্নিত করতে সক্ষম। এছাড়াও ক্ষেপণাস্ত্র সিমুলেশন রাউন্ড, ব্যাটারি কুল্যান্ট ইউনিট, প্রশিক্ষণ সহায়তা, যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তিগত পরিষেবা—সবই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, অস্ত্র সরবরাহ ছাড়াও জাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারের প্রশিক্ষণও পাবে ভারতীয় সেনা।

প্রায় ৪০৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে শুধুমাত্র জাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পেছনে। বাকি অর্থ কামানের উন্নত গোলা ও অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জামের জন্য বরাদ্দ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিনিয়োগ ভারতীয় সেনার আঘাত হানার ক্ষমতা যেমন বাড়াবে, তেমনই পশ্চিম ফ্রন্টে পাকিস্তান এবং উত্তরে চীনের ট্যাংক মোতায়েন কৌশল মোকাবিলায় জাভেলিন অত্যন্ত কার্যকর হবে। ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে এই চুক্তি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, যা ভবিষ্যতে আরও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়ের পথ প্রশস্ত করবে।