অফিসে বাড়ছে ওজন? জেনে নিন কারণ ও সমাধানের টিপস

অনেকের কাছেই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটানোর জায়গা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই স্থানটি অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠতে পারে, যার প্রধান ফলস্বরূপ দেখা দেয় ওজন বৃদ্ধি। দীর্ঘক্ষণ ধরে বসে থাকা, কাজের চাপ এবং সহজলভ্য অস্বাস্থ্যকর খাবার – এই ত্রয়ী অনায়াসেই আপনার ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সচেতন থাকলে এবং কিছু সাধারণ পরিবর্তন আনলে কর্মক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক অফিসে ওজন বৃদ্ধির মূল কারণগুলো এবং তা নিয়ন্ত্রণের কিছু কার্যকরী উপায়:

১. নড়াচড়া কম থাকা:

আধুনিক কর্মজীবনে বহু কাজই দীর্ঘক্ষণ ধরে চেয়ারে বসে করার প্রয়োজন হয়। এই স্থবিরতা ধীরে ধীরে আমাদের অলস করে তোলে এবং ওজন বৃদ্ধির একটি অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। শারীরিক কার্যকলাপের অভাব শরীরে মেদ জমিয়ে দেয়।

নিয়ন্ত্রণ করার টিপস:

কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে চেয়ার ছেড়ে উঠুন এবং অফিসের আশেপাশে কিছুক্ষণ হেঁটে আসুন। ছোট ছোট বিরতি আপনার শরীরের জড়তা কাটাতে সাহায্য করবে।
সম্ভব হলে বসার সময় কমানোর জন্য স্ট্যান্ডিং ডেস্কের ব্যবহার শুরু করতে পারেন। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা ক্যালোরি ঝরাতেও সহায়ক।
লিফট ব্যবহারের প্রবণতা কমান এবং সিঁড়ি ব্যবহার করা শুরু করুন। এটি একটি সহজ ব্যায়াম যা আপনার রুটিনে সহজেই যোগ করা যায়।
প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একবার উঠে ২-৩ মিনিটের জন্য হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস তৈরি করতে ফোনে অ্যালার্ম সেট করতে পারেন।
২. কাজের চাপ (স্ট্রেস):

কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ একটি স্বাভাবিক ঘটনা। অফিসের কাজ আমাদের জীবনেরই অংশ, তাই কাজের ডেডলাইন এবং অন্যান্য চাপ অনুভব হওয়া স্বাভাবিক। তবে এই অতিরিক্ত মানসিক চাপ ওজন বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হতে পারে। স্ট্রেসের কারণে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর খাবার, বিশেষত জাঙ্ক ফুডের প্রতি আকৃষ্ট হন, যা খুব দ্রুত ওজন বাড়িয়ে দেয়।

নিয়ন্ত্রণ করার টিপস:

কাজের ফাঁকে গভীর শ্বাস নেওয়ার ব্যায়াম, ধ্যান (মেডিটেশন) অথবা যোগাভ্যাসের মতো কৌশল রপ্ত করুন ও চর্চা করুন। এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসের পরিবর্তে বাদাম, ফল অথবা সবজির মতো স্বাস্থ্যকর খাবার সবসময় আপনার ডেস্কের কাছে রাখুন। ক্ষুধা পেলে এগুলি খান।
মানসিক চাপ কমাতে কাজের ফাঁকে অল্প সময়ের জন্য হাঁটতে যান অথবা প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য ব্যায়ামে যুক্ত হন।
৩. অস্বাস্থ্যকর নাস্তা:

অফিসের ক্যান্টিনের অস্বাস্থ্যকর খাবার অথবা সহকর্মীদের আনা লোভনীয় ফাস্ট ফুড এড়িয়ে যাওয়া বেশ কঠিন। অফিসে সাধারণত স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প খুব কম থাকে, আর মুখরোচক খাবার দেখলে লোভ সামলানোও কঠিন হয়ে পড়ে। এভাবেই সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি, বার্গারের মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

নিয়ন্ত্রণ করার টিপস:

অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়াতে প্রতিদিন বাড়ি থেকে স্বাস্থ্যকর নাস্তা নিয়ে যান। যেমন – দই, ফল, ঘরে তৈরি কেক অথবা স্যান্ডউইচ।
আপনার ডেস্কে সবসময় একটি জলের বোতল রাখুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা শুধু শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে না, অনেক সময় খিদে কমাতেও সাহায্য করে।
খাবার গ্রহণের সময় সচেতন থাকুন। তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে প্রতিটি কামড়ের স্বাদ নিয়ে ভালো করে চিবিয়ে খান। এতে পেট ভরা অনুভূতি দ্রুত আসবে এবং অতিরিক্ত খাওয়া এড়ানো যাবে।
কাজের পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর করে তোলার জন্য এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনতে পারে। সচেতন থাকুন এবং সুস্থ জীবনযাপন করুন।