“আমাদের কী হবে?” নবম-দশম নয়, শুধুমাত্র একাদশ-দ্বাদশ স্তরের পরীক্ষায় বসা যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ!

শনিবার রাতে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের যে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে নাম নেই হাজারো যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকের। প্রায় ২০ হাজার পরীক্ষার্থী এই তালিকায় স্থান পেলেও, শূন্যপদ রয়েছে মাত্র ১৪,৪০০-র বেশি। আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে নথি যাচাই শুরু হবে। কিন্তু এই তালিকা প্রকাশের পরই রাজ্যের চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র হতাশা, উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

আশঙ্কা: শুধুমাত্র একাদশ-দ্বাদশ স্তরের পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন সেই প্রার্থীরা, যাঁরা শুধুমাত্র একাদশ-দ্বাদশ স্তরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। নবম-দশম শ্রেণির পরীক্ষায় যাঁরা বসেছিলেন, তাঁদের আরেকটি সুযোগের সম্ভাবনা থাকলেও, এই শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।

যোগ্য শিক্ষকদের একাংশের সোজাসাপটা দাবি, অবিলম্বে শূন্যপদ বাড়িয়ে সকল যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দিতে হবে, অন্যথায় বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাবে।

৪ নম্বরের জন্য বাদ, ঋণের বোঝা ও মানসিক চাপ

  • চন্দ্রাণী সাহা (কম্পিউটার সায়েন্স): হুগলি জেলার এই শিক্ষিকা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেলেও, তাঁর উপর রয়েছে মোটা অঙ্কের ব্যাংক ঋণ এবং পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব। মাত্র চার নম্বরের জন্য ইন্টারভিউ তালিকা থেকে বাদ পড়ায় তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। চন্দ্রাণী সাহার বক্তব্য, “নার্ভের সমস্যার কারণে সেভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারিনি। এমন পরিণতি হবে কোনওদিন ভাবিনি।”

  • শ্বেতা চক্রবর্তী (দর্শন): শুধুমাত্র একাদশ-দ্বাদশ স্তরের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এই শিক্ষিকাও চার নম্বরের জন্য তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নিয়োগের সময় এসএসসির প্রশাসনিক ভুলের কারণে তাঁকে দেরিতে যোগদান করতে হয়েছিল। ফলস্বরূপ, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দু’নম্বর কম পেয়েছেন। তাঁর ক্ষোভ, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন একজন যোগ্যেরও চাকরি যাবে না। আজ প্রশাসনিক ভুলেই আমরা বঞ্চিত।”

যোগ্য শিক্ষক সত্যব্রত জানা দাবি করেন, এবারের কাট-অফ মার্কস অনেকটাই বেশি হওয়ায় অনেক অভিজ্ঞ ও নতুন প্রার্থী পিছিয়ে পড়েছেন। তাঁর কথায়, “শূন্যপদ বাড়ানোই একমাত্র সমাধান। কারণ বহু স্কুল আজ শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”

চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম মুখ মেহবুব মণ্ডল নিয়োগ বা বিচার বিভাগের অসঙ্গতির দায় সরকারের উপর চাপিয়ে বলেছেন, “পাঁচ-ছয় বছর চাকরি করে আজ আমরা কর্মহীন। আমাদের দাবি – একজন যোগ্য শিক্ষকও যেন বঞ্চিত না-হন।”

শিক্ষামন্ত্রীর ‘ভরসা’ বার্তা

এদিকে, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, এই তালিকা প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সরকারের অঙ্গীকারের “স্বচ্ছ, সুদৃঢ় ও দায়বদ্ধতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত”। তিনি চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি “ভরসা রাখুন, ভরসা থাকুক” বলে বার্তা দিয়েছেন। তবে শিক্ষিকাদের অভিযোগ, এই বার্তা তাঁদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারেনি। তাঁরা কমিশনকে আরও একটি ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy