কাশ্মীর উপত্যকায় মদের দোকান খোলা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তাল রাজনৈতিক মহল। জল্পনা ও বিতর্কের জল এতটাই গড়িয়েছে যে, শেষমেশ মুখ খুলতে বাধ্য হলেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তবে এবার সুর নরম করে তিনি স্বীকার করে নিলেন যে, বিধানসভায় এই স্পর্শকাতর ইস্যুতে অত্যন্ত দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোই তাঁর ভুল ছিল। ওমরের এই ‘ভুল’ স্বীকারের পর উপত্যকার রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভায় উপত্যকায় নতুন মদের দোকান খোলা এবং মদ্যপান সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন ওঠে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছিলেন, তাতেই বিতর্কের বারুদ জমা হয়। ধর্মীয় ও সামাজিক সেন্টিমেন্টের কারণে কাশ্মীরে এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিরোধীরা অভিযোগ তোলেন, সরকার রাজস্ব বাড়াতে উপত্যকার সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আবেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
চাপের মুখে নতিস্বীকার? বিরোধী দলগুলি তো বটেই, এমনকি সাধারণ মানুষের একাংশের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে অস্বস্তিতে ছিল সরকার। এরপরই একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ওমর আবদুল্লা বলেন, “সেই মুহূর্তে চটজলদি উত্তর দেওয়াটাই আমার বড় ভুল হয়েছে। বিষয়টি আরও বিশদে খতিয়ে দেখে তবেই মন্তব্য করা উচিত ছিল।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ড্যামেজ কন্ট্রোল হিসেবেই দেখছেন।
কী হতে চলেছে পরবর্তী পদক্ষেপ? ওমর স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে না এবং উপত্যকার মানুষের ভাবাবেগকে সম্মান জানানো হবে। তবে সরকারের এই অবস্থান পরিবর্তনের পর মদের দোকান খোলা নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তাতে আপাতত ইতি পড়বে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। সমালোচকদের মতে, উপত্যকায় নিজেদের জমি শক্ত রাখতে এই মুহূর্তে জনরোষের মুখে পড়তে চাইছে না ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতৃত্ব।





