বিহারের সিংহাসনে নীতীশ কুমার! অমিত শাহের বৈঠকে চূড়ান্ত মন্ত্রিসভার রফাসূত্র, ফাঁস হলো বিজেপি-জেডিইউ-এর মন্ত্রীপদের ভাগ

বিহারের রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণে বড়সড় অদলবদল ঘটেছে। এবার নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ-কে পিছনে ফেলে বিজেপি রাজ্যের একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পদে কে বসবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নীতীশ কুমারকেই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে মেনে নিল এনডিএ-এর সর্ববৃহৎ শরিক বিজেপি। অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর এই রফাসূত্র চূড়ান্ত হয়েছে।

সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, আগামী বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার বিহারের এনডিএ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত তারিখটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কর্মসূচির উপর নির্ভর করছে।

মন্ত্রিসভার রফাসূত্র চূড়ান্ত

শনিবার দিল্লিতে অমিত শাহের সঙ্গে এনডিএ জোটের বৈঠকে মন্ত্রিসভা গঠনের রফাসূত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিজেপি প্রাথমিকভাবে দ্বিধা দেখালেও নীতীশ কুমারের উপরই আস্থা রাখা হয়েছে। নির্বাচনে বিজেপি ৮৯টি আসন নিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে, অন্যদিকে জেডিইউ ৮৫টি আসন পেয়েছে।

জানা গিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভায় বিজেপির সিংহভাগের অংশীদারিত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরেই থাকবে জেডিইউ। জোটের ছোট শরিকদেরও মন্ত্রিসভা পরিকল্পনায় স্থান দেওয়া হবে। এনডিএ সরকার গঠনের জন্য ‘প্রতি ছয় বিধায়কের জন্য একজন মন্ত্রী’ সূত্র অনুসরণ করেছে বলে জানা গেছে।

  • বিজেপি: ১৫ বা ১৬ জন মন্ত্রী পদ পেতে পারে।

  • জেডিইউ: ১৪ জন মন্ত্রী পদ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • এলজেপি(আরভি): চিরাগ পাসোয়ানের নেতৃত্বাধীন লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) তিনটি মন্ত্রী পদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • অন্যান্য শরিক: জিতন রাম মাঝির হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (HAM) এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহার রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টি (আরএলএসপি) একটি করে মন্ত্রী পদ পেতে পারে।

সরকার গঠনের প্রক্রিয়া

১৮তম বিহার বিধানসভা গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারির সঙ্গে সঙ্গে রবিবার সরকার গঠনের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে।

  1. নীতীশ কুমার আগামীকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন, যেখানে বিদায়ী ১৭তম বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  2. প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর, নীতীশ কুমার রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

  3. এরপর এনডিএ-র অন্তর্ভুক্ত দলগুলি জোটের নেতা নির্বাচনের জন্য তাদের পরিষদীয় দলের বৈঠক করবে এবং নতুন সরকার গঠনের দাবি জানাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচী চূড়ান্ত হওয়ার পরে ১৯ বা ২০ নভেম্বর শপথ অনুষ্ঠানের তারিখ নিশ্চিত করা হবে। এই অনুষ্ঠানে নীতীশ কুমার রেকর্ড দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এনডিএ এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে জমকালো করার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাদের ঐক্য এবং রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন করতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ছাড়াও, এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy