লালকেল্লা বিস্ফোরণ: আটক আরও ৩, জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ চিকিৎসক

লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও তিনজনকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। আটক হওয়াদের মধ্যে দু’জন আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক। অভিযোগ, ধৃতরা লালকেল্লা বিস্ফোরণে নিহত ডাঃ উমর নবির পরিচিত। এই নতুন আটকের ঘটনায় দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’ যোগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বিস্ফোরণের ঘটনা ও নতুন আটক: গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬.৫০ মিনিট নাগাদ দিল্লির লালকেল্লার সামনে সুভাষ মার্গ ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। গাড়িতে থাকা চালক আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডাঃ উমর নবি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এই সূত্র ধরেই তদন্তকারী দল হরিয়ানার ধৌজ, নুহ এবং তার আশপাশের অঞ্চলে তল্লাশি চালায়। শুক্রবার রাতে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল এবং এনআইএ-র দল নুহ থেকে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই চিকিৎসক মহম্মদ এবং মুস্তাকিমকে আটক করে। সরকারি সূত্রের খবর, এই দুই ডাক্তারের সঙ্গে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ধৃত ডাঃ মুজাম্মিল গানাইয়ের যোগাযোগ ছিল।

বিস্ফোরক ও জঙ্গি মডিউল: তদন্তকারীরা লালকেল্লার গাড়ি বিস্ফোরণের সঙ্গে ফরিদাবাদ থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের যোগসূত্র পেয়েছেন। বিস্ফোরণের দিনই পুলিশের তরফে জানা গিয়েছিল, ফরিদাবাদের ধৌজ গ্রামের দু’টি বাড়ি থেকে প্রায় ২ হাজার কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে একটি বাড়ি থেকে ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট পাওয়া যায়। এই ঘটনায় আগেই গ্রেফতার হয় আটজন, যাদের মধ্যে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডাঃ মুজাম্মিল গানাই এবং ডাঃ শাহিন শাহিদ ছিলেন। অভিযোগ, এই চিকিৎসকরা জইশ ও আনসার-গাজাওয়াত উল হিন্দ জঙ্গি সংগঠনের ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’ হিসাবে কাজ করছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, আটক হওয়া দুই ডাক্তারের মধ্যে একজন বিস্ফোরণের দিন দিল্লিতেই ছিলেন। তিনি এইএমস-এ চাকরির ইন্টারভিউ দিতে রাজধানীতে এসেছিলেন বলে খবর। এখন মহম্মদ এবং মুস্তাকিমকে জেরা করে ডাঃ গানাইয়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক এবং বিস্ফোরণের সঙ্গে তাঁদের জড়িত থাকার দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চা-বিক্রেতা ও সার বিক্রেতাও জালে: এছাড়াও, ওয়াজিপুর শিল্পাঞ্চল এলাকায় এক চা-বিক্রেতাকে ডাঃ উমরের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বিস্ফোরণের দিন ডাঃ উমর তাঁর দোকানে ১০-১৫ মিনিটের জন্য বসেছিলেন। চা-বিক্রেতা পুলিশকে জানিয়েছেন, মাস্ক পরা উমর তাঁর দোকানে চা বা অন্য কিছু খাননি। জিজ্ঞাসাবাদের পর চা-বিক্রেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজও চাওয়া হয়েছে।

নুহতে তল্লাশি চালিয়ে দীনেশ ওরফে ডাব্বু নামের আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, সে লাইসেন্স ছাড়া চাষের সার বিক্রি করত। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই হোয়াইট কলার টেরর মডিউল প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা দিয়ে বিস্ফোরক কিনেছিল এবং ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে এনপিকে সার কিনেছিল, যা বোম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। দীনেশ ওই অভিযুক্ত চিকিৎসকদের সার বিক্রি করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে, গ্রেফতার হওয়া ডাঃ শাহিন শাহিদ সম্প্রতি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। গত ৩ নভেম্বর পাসপোর্টের যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ নম্বর হস্টেলে গিয়েছিল এবং তাঁর ছবিও তুলেছিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy