একদিকে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ। ঠিক এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতেই চিনের মাটিতে পা রাখলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেজিংয়ের ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হলেন তিনি। বৈঠক শেষে জিনপিঙকে ‘অকৃত্রিম বন্ধু’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশের এমন সুসম্পর্ক আগে কখনও দেখা যায়নি।
ট্রাম্পের পাতে বেজিংয়ের রাজকীয় স্বাদ
হোয়াইট হাউজ সূত্রে খবর, মার্কিন প্রতিনিধিদের জন্য বেজিংয়ে এক এলাহি নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন শি জিনপিং। সেই রাজকীয় মেনুতে ছিল:
স্টার্টার: গলদা চিংড়ি দিয়ে তৈরি টমেটো স্যুপ এবং মুচমুচে বিফ রিবস।
মেন কোর্স: বেজিংয়ের বিখ্যাত ডাক রোস্ট, সিজনাল সবজি এবং মাস্টার্ড সসে বিশেষ কায়দায় রান্না করা ‘স্লো-কুকড স্যালমন’।
ডেজার্ট ও স্ন্যাকস: প্যান ফ্রায়েড পর্ক বান, ট্রাম্পেট সেল-শেপড প্যাস্ট্রি এবং তিরামিসু। এছাড়াও ছিল রকমারি ফল ও আইসক্রিম।
নৈশভোজের মেজাজে ট্রাম্প জিনপিং ও তাঁর স্ত্রীকে আমেরিকায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, “অপূর্ব আতিথেয়তা! আমরা আপনাদের অভ্যর্থনা জানাতে মুখিয়ে থাকব।”
হরমুজ প্রণালী: লক্ষ্য যখন বিশ্ব শান্তি
মহাভোজের আড়ালে এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল কৌশলগত কূটনৈতিক চাল। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে খনিজ তেল পরিবহণ কার্যত থমকে গিয়েছে। ইরান এই জলপথ বন্ধ করার হুমকি দিলেও, মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে কড়া প্রহরা দিচ্ছে।
বৈঠকে শি জিনপিং ও ট্রাম্প একমত হয়েছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা একান্ত প্রয়োজন। উল্লেখ্য, এই জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরানকে কোনওরকম মাশুল বা অর্থ দেওয়ার কড়া বিরোধিতা করেছেন জিনপিং। চিনা প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর তেলের নির্ভরতা কমিয়ে তিনি আমেরিকার কাছ থেকেই জ্বালানি আমদানিতে আগ্রহী।
নতুন সমীকরণের পথে বিশ্ব রাজনীতি?
মার্কিন আধিকারিকদের মতে, চলতি বছরে ট্রাম্প ও জিনপিঙের মধ্যে আরও অন্তত চারবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মিয়ামিতে জি-২০ সম্মেলন এবং বছরের শেষে গুয়ানঝৌতে এপেক (APEC) বৈঠকেও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনা চলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে সমর্থন জানানো চিনের সঙ্গে ট্রাম্পের এই ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ রাতারাতি বদলে দিতে পারে। এই সাক্ষাৎকে ‘এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ শীর্ষ সম্মেলন’ বলে অভিহিত করে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকার জন্য চিনের দরজা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি চওড়া।





