সাবধান! ৩ বছর পর্যন্ত সন্তানকে ডায়াপার পরালে মারাত্মক ক্ষতি! মা-বাবারা জানুন আসল বিপদ!

নিশ্চিন্তে থাকা এবং সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেক মা-বাবাই শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে ডায়াপার পরিয়ে রাখেন। বিশেষ করে বাইরে বেরোনোর সময় বা রাতে আরামের ঘুমের জন্য এটি খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু বহু অভিভাবক প্রায় তিন বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানকে ডায়াপারে অভ্যস্ত করে তোলেন, যা শিশুর ত্বক এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। ডায়াপার ব্যবহারের সুবিধা থাকলেও, এর কিছু গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।
বেশি ডায়াপার ব্যবহারের ৪টি বড় ক্ষতি:
১. ত্বকের অ্যালার্জি: শিশুদের ত্বক অত্যন্ত নরম এবং সংবেদনশীল। ডায়াপার তৈরিতে ব্যবহৃত সিন্থেটিক ফাইবার, রং এবং বিভিন্ন রাসায়নিক শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষতি করে অ্যালার্জির সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই সর্বদা নরম এবং ‘স্কিন-ফ্রেন্ডলি’ উপকরণ দিয়ে তৈরি ডায়াপার ব্যবহার করা উচিত।
২. ডায়াপার ব়্যাশ ও লালচে ভাব: এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা। নোংরা এবং ভেজা ডায়াপার দীর্ঘক্ষণ পরে থাকলে তাতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে। এর ফলে শিশুর ত্বকে ব়্যাশ বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে, যা শিশুর জন্য খুব যন্ত্রণাদায়ক। এই সমস্যা এড়াতে নিয়মিত ডায়াপার বদলানো এবং মলমূত্র ত্যাগের পর তা যেন বেশিক্ষণ শিশুর গায়ে লেগে না থাকে সেদিকে মনোযোগ দেওয়া আবশ্যক।
৩. সংক্রমণ বা ইনফেকশনের ঝুঁকি: ডায়াপার এমনভাবে তৈরি হয় যাতে তা সহজে প্রস্রাব শোষণ করতে পারে। কিন্তু এই উপাদানগুলো ডায়াপারের ভেতরে বাতাস চলাচলে বাধা দেয়, ফলে ভেতরের উষ্ণ ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণুর বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ডায়াপার ব্যবহারে শিশুদের সংক্রমণ বা ইনফেকশনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ঘরের ভেতরেও দীর্ঘ সময় ডায়াপার পরিয়ে রাখা একেবারেই অনুচিত।
৪. কমোডে বসতে অস্বস্তি (টয়লেট ট্রেনিং-এ বাধা): শিশুকে বেশিমাত্রায় ডায়াপার পরিয়ে রাখলে টয়লেট ট্রেনিং দিতে মা-বাবাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ শিশুরা ডায়াপারেই প্রস্রাব-মলত্যাগে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। ফলে তারা কমোড ব্যবহার করতে অনীহা প্রকাশ করে। শিশুকে টয়লেট ট্রেনিং দেওয়ার জন্য ডায়াপারের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলা ভালো।
করণীয় সতর্কতা:
ডায়াপার নির্বাচন: নিম্নমানের ডায়াপার এড়িয়ে চলুন। বেছে নেওয়ার সময় শোষণক্ষমতা, আরামদায়ক এবং লিকপ্রুফ গুণমান দেখে নিন।
সঠিক পরিধান: ডায়াপার বেশি আঁটসাঁট করে পরাবেন না। ঢিলেঢালা ডায়াপার শিশুদের আরাম দেয় এবং পায়ের ও কোমরের আশপাশে দাগ হওয়া থেকে বাঁচায়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ডায়াপার বদলানোর সময় শিশুকে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। বেবি ওয়াইপস (সুগন্ধি বা অ্যালকোহলমুক্ত), ভেজা কাপড় বা তুলার বল ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্যবিধি: জীবাণু সংক্রমণ রোধ করতে ডায়াপার বদলানোর পর অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।