প্রতিদিন ৭ ঘণ্টার বেশি কাজ করলেই নামছে মৃত্যুর খাড়া! অফিসের এই মারাত্মক ফাঁদ থেকে কীভাবে বাঁচবেন জানুন!

আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতির বেড়াজাল এবং প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার ইঁদুরদৌড়ে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা যেন বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক অবধারিত অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকালের প্রথম আলো থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে বসে অতিরিক্ত পরিশ্রম করাকেই অনেকে সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি বলে মনে করেন। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) সাম্প্রতিক যৌথ গবেষণার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর গোটা বিশ্বে রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, যাঁরা প্রতিদিন একটানা সাত ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম বা ডেস্ক জব করেন, তাঁদের শরীরে মারাত্মক ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদী এই অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা মানবদেহের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দকে সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মারাত্মক এই শারীরিক পরিণতিগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রথম আঘাত হানে আমাদের হৃদ্‌যন্ত্র বা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের ওপর। চিকিৎসকদের মতে, একটানা দীর্ঘক্ষণ মানসিক চাপ ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে কাজ করার ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। এর ফলে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক এবং মারাত্মক স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যা বহু তরুণের ক্ষেত্রে অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে কাজ করার কারণে শরীরের লিপিড মেটাবলিজম পুরোপুরি থমকে যায়, ফলে স্থূলতা বা ওবেসিটি, টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং দীর্ঘমেয়াদী যকৃতের রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে। এর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ে; একটানা কাজের চাপে চরম অবসাদ, তীব্র অনিদ্রা এবং দুশ্চিন্তা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়।

এই মারাত্মক ও ভয়াবহ শারীরিক বিপর্যয় থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হলে দৈনন্দিন কর্মজীবন এবং জীবনযাত্রার অভ্যাসে এখনই জরুরি পরিবর্তন আনা অত্যন্ত আবশ্যক। প্রতিটি পেশাজীবীর উচিত কাজের মাঝে প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে একটু হেঁটে নেওয়া এবং হালকা স্ট্রেচিং করার অভ্যাস গড়ে তোলা। কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত মানসিক চাপকে দূরে রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত যোগব্যায়াম বা শারীরিক এক্সারসাইজকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলতে হবে। মনে রাখবেন, অন্ধের মতো অতিরিক্ত কাজ করে সফল হওয়ার চেয়ে নিজের অমূল্য জীবন ও সুস্থ শরীরকে বাঁচিয়ে রাখা অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।