আর হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা দিন। আগামী সোমবার কার্তিক পুজো এবং মঙ্গলবার ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা তথা ‘কার্তিক লড়াই’-এর জন্য তৈরি কাটোয়া শহর। উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে রঙিন আলোয়, বিভিন্ন ক্লাব ও মোড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের জোর প্রস্তুতি। সমগ্র শহর যখন উৎসবের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে, ঠিক তখনই এর উল্টো ছবি ধরা পড়ল শহরের কুমোরপাড়ায়।
প্রতিমা তৈরি করেই যাঁদের জীবিকা, সেই স্থানীয় শিল্পীদের মুখে এবার হতাশার ছাপ স্পষ্ট। তাঁদের অভিযোগ, এই বছর কার্তিক পুজোকে ঘিরে প্রতিমার অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জানা গিয়েছে, কাটোয়ার বহু বড় ক্লাব এবার প্রতিমা তৈরি করার জন্য স্থানীয় শিল্পীদের পরিবর্তে বাইরের শিল্পীদের ওপর নির্ভর করছে।
বাইরের শিল্পীদের দাপটে মাথায় হাত স্থানীয়দের
কুমোরপাড়ার শিল্পী সুজিত পাল এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এবার বাজার সেরকম ভাল নয়। কারণ সব ক্লাব বাইরে ঠাকুর অর্ডার দিয়েছে। এবছর কাটোয়ার ঠাকুরের সেরকম অর্ডার নেই।”
শিল্পীরা আরও জানান, বাজারে প্রতিমা তৈরির কাঁচামালের দাম (যেমন মাটি, খড়, রঙ) বেশ বেড়ে গেলেও প্রতিমার দাম সেই অনুপাতে বাড়ানো যায়নি। ফলে খরচের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য রাখতেই সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা। বছরখানেক আগেও যে পরিমাণ অর্ডার তাঁরা পেতেন, তার তুলনায় এবার অর্ডার কমে গেছে অনেকটাই।
স্থানীয় আরেক শিল্পী হাবল পাল বলেন, “আমরা যেরকম চাইছি বাজার সেরকম নেই। সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু প্রতিমার দাম সেভাবে বাড়েনি। আমাদের সত্যিই অসুবিধা হচ্ছে। প্যান্ডেলে, লাইটে প্রচুর টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু ঠাকুরের বেলায় দাম নেই।”
যদিও কিছু সংখ্যক শিল্পী অল্প কিছু বড় প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন এবং সেগুলি তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু উৎসবের রঙিন আবহের মাঝেও অধিকাংশ কুমোরশিল্পীর এই দুশ্চিন্তা এবং নিরাশার ছবি কাটোয়ার কার্তিক লড়াইয়ের এক কঠিন বাস্তবকে তুলে ধরছে।