‘গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে যাই, চাকরি চাই না!’ অতিরিক্ত কাজের বোঝায় কাঁদতে কাঁদতে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিএলও

পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া বিডিও অফিসে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) জন্য বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)-দের প্রশিক্ষণ চলাকালীন এক অভূতপূর্ব ও মর্মান্তিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল উপস্থিত সকলে। অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং অনলাইন ফর্ম আপলোডের জটিলতা নিয়ে এক মহিলা বিএলও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, “আমি তো ভাবছিলাম গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে যাই, আমার চাকরির দরকার নেই।” অন্যান্য বিএলও-রাও তাঁর সুরে সুর মেলান এবং অনেকেই তাঁকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে যান।

কেন ক্ষুব্ধ বিএলও-রা?

নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার সময়সীমা ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেঁধে দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএলও-দের মূল অভিযোগগুলি হল:

  • নেটওয়ার্ক সমস্যা: কাটোয়া বিধানসভা এলাকার বিএলও-দের অভিযোগ, মোবাইল ফোনে সব জায়গায় ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না, ফলে অ্যাপে ফর্ম আপলোড করা দুরূহ।

  • কাজের চাপ: এক একজনকে গড়ে ৬০০ থেকে এক হাজারের বেশি ভোটারের ফর্ম সংগ্রহ করে আপলোড করতে হবে, যা খুবই সময় সাপেক্ষ।

  • অনলাইনে অনভিজ্ঞতা: বিএলও-দের একটি বড় অংশের অনলাইনে কাজ করার কোনও অভিজ্ঞতা নেই।

তাঁদের দাবি, ফর্ম সংগ্রহের কাজ তাঁরা করে দিলেও আপলোডের জন্য একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর প্রয়োজন। প্রশাসনকে জানানোর পরেও সদুত্তর না মেলায় মানসিক চাপ নিতে না পেরে অনেকেই এখন টেনশনে ভুগছেন এবং প্রকাশ্যেই জীবন শেষ করার হুমকি দিচ্ছেন। বিএলও দেবাশিস দাস জানান, “আমরা অসুস্থ হওয়ার পরেও ফর্ম বিলি করেছি। আমার পার্টে ১০৯৩ ভোটার। এই অবস্থায় এত কম সময়ে কাজ করব কীভাবে, আর আমরা ডাটা এন্ট্রির কাজেও দক্ষ নই।”

প্রশাসনের বক্তব্য:

কাটোয়ার মহকুমাশাসক অনির্বাণ বসু এই প্রসঙ্গে বলেন, “কাটোয়া মহকুমার তিনটে বিধানসভার সমস্ত বিএলওকে অ্যাপস ও ফর্ম আপলোড সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অনেকেই শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। আমরাও তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলেছি। সেই কাগজ মেডিক্যাল বোর্ডে পাঠানো হবে। বোর্ড যদি মনে করে তাঁরা অসুস্থ, তবে কমিশনকে জানানো হবে। তারপর কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেবে সেই অনুযায়ী কাজ হবে। আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়।”

সাহায্যের জন্য হেল্পলাইন: যদি আপনার মধ্যে কখনও আত্মহত্যার চিন্তা আসে বা আপনি হতাশায় ভোগেন, তবে ভেঙে পড়বেন না। সাহায্য পেতে দিনের যে কোনও সময়ে স্নেহা ফাউন্ডেশন (044-24640050) বা টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরে (9152987821) কল করতে পারেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy