এনডিএ-র ঝড়ে মহাজোটের ভরাডুবি, রাহুল গান্ধীর ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ কাজে এল না, আরজেডি-কংগ্রেসের শোচনীয় ফল

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত ভরাডুবির মুখে মহাজোট। এই নির্বাচনে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ এবং বিজেপি ভোট চুরি করছে—এই অভিযোগ তুলে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিহারের বিস্তীর্ণ অংশে প্রচার চালিয়েও কোনো লাভ হল না বিরোধী শিবিরের। শোচনীয় ফলাফলে আরজেডি-কংগ্রেসের মহাজোট কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এনডিএ ২০২টি আসনে এগিয়ে থেকে ম্যাজিক ফিগার পার করেছে, যেখানে মহাজোটের ঝুলিতে মাত্র ৩৫টি আসন।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছে কংগ্রেস। বিহারে ভোট চলাকালীন মহিলাদের যখন ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছিল, সেই সময় কমিশন “নীরব দর্শকের” ভূমিকা পালন করছিল বলে অভিযোগ তুলেছে দলটি।

অশোক গেহলৌতের বিস্ফোরক মন্তব্য:

বিহারের কংগ্রেসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক অশোক গেহলৌত ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “বিহারের ফলাফল হতাশাজনক, এব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। সেখানে আমি যে ধরনের পরিবেশ দেখেছি—মহিলাদের প্রত্যেককে ১০,০০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছিল; নির্বাচনী প্রচার চলাকালীনও তা দেওয়া হচ্ছিল… নির্বাচন কমিশন নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। কেন এটা বন্ধ করা হয়নি? এটা করা উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি… এর মানে হল রাহুল গান্ধী ভোট চুরি নিয়ে যা বলেছেন, এটাই ভোট চুরি।”

গেহলৌত আরও অভিযোগ করেন, “যদি সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়, যদি কারচুপি হয়, যদি বুথ দখল হয়, যদি জালিয়াতি হয় এবং অর্থ বিতরণ করা হয়—নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি, তারা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যোগসাজশ করছে।” তিনি অর্থের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আজকাল অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে। মহারাষ্ট্রে, প্রার্থীদের কোটি কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস এবং আরজেডির কাছে টাকা নেই। তাই, গণতন্ত্রের উপর হুমকি তৈরি হচ্ছে।”

জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে গেহলৌত বলেন, “নির্বাচন জেতা এক কথা, এনডিএ জিতবে এবং সরকার গঠন করবে। মোদিজি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে কংগ্রেসের আদর্শই জাতির স্বার্থে। দেশের কংগ্রেসের প্রয়োজন। তারা (এনডিএ) নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে।”

মহিলা ভোট, এসআইআর, সুশাসন—কোন ফ্যাক্টর কাজ করল বিহারের এই ফলে? এই নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর চর্চা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy