বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে এবার বিহারের পাটনায় আয়োজিত হতে চলেছে হিমালয়ান অরেঞ্জ ট্যুরিজম ফেস্টিভাল। চলতি বছরের ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পাটনায় এই কমলালেবুর উৎসবের আয়োজন করা হবে। রাজ্য পর্যটন, অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম (ACT)-এর সঙ্গে বিহার ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন ও বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বিহারের যৌথ সহযোগিতায় এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ছ’বার শিলিগুড়ি ও কলকাতায় আয়োজিত হয়েছিল এই ফেস্টিভাল। এবার ভিনরাজ্যে আয়োজনের মূল লক্ষ্য হল বিহার ও ঝাড়খণ্ডের নতুন পর্যটন বাজার দখল করা। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, কলকাতা বা দক্ষিণবঙ্গের পর্যটকরা এমনিতেই পাহাড় ও ডুয়ার্সে যান। কিন্তু উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করতে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলির পর্যটকদের আকর্ষণ করা প্রয়োজন। বর্তমানে ওই দুটি রাজ্য থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যটন ব্যবসা আসে। তাই, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা যাতে আরও বেশি করে উত্তরবঙ্গে বেড়াতে আসার আগ্রহ দেখান, সেই লক্ষ্যেই পাটনাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ:
ACT সূত্রে খবর, এই উৎসবে দার্জিলিং, মিরিক, সিটং, লাটপাঞ্চার, বক্সা, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের সেরা কমলা প্রদর্শিত হবে। উত্তরবঙ্গের প্রায় ২৪৩ জন হোম স্টে মালিক এই উৎসবে অংশ নিচ্ছেন, যা আড়াই লক্ষের বেশি স্টেকহোল্ডারকে প্রতিনিধিত্ব করবে।
অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের আহ্বায়ক রাজ বসু বলেন, “কমলা উৎসবের মাধ্যমে পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি পাহাড় ও ডুয়ার্সের খাবারদাবার, সংস্কৃতি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ ঘটানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। করোনা পরবর্তী সময়ে বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা পাহাড়ের অফবিট ডেস্টিনেশন, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস এবং স্থানীয় হস্তশিল্প তুলে ধরব।”
যুগ্ম আহ্বায়ক গীতালি লাহিড়ীর মতে, এই উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য হল হিমালয় (নেপাল, দার্জিলিং, ভুটান থেকে অরুণাচল প্রদেশ) পর্যন্ত বিস্তৃত বুদ্ধ ধর্মের পীঠস্থানগুলির সঙ্গে বিহারের রাজগীর, নালন্দা, এবং বুদ্ধগয়ার মতো বুদ্ধিস্ট সার্কিটকে যুক্ত করা।