‘সামরিক দেশে পরিণত হবে পাকিস্তান!’ সেনাকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিতে সংবিধান সংশোধনের তোড়জোড়, কড়া বার্তা বিশেষজ্ঞদের

বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে পাকিস্তান। দেশটির ২৭তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেনাপ্রধানকে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং স্থল-নৌ-আকাশ সেনাবাহিনীর প্রধান বা ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্স’ (সর্বোচ্চ পদাধিকারী) হিসেবে নিযুক্ত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। এই বিল পাশ হলে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির হতে চলেছেন পাকিস্তানের সামরিক সর্বাধিনায়ক।
বহু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই বিলের ফলে ভঙ্গুর গণতন্ত্র থেকে পাকিস্তান একদম সামরিক দেশে পরিণত হতে পারে।
কী বলছে নতুন বিল?
আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার এই বিলটি পাক মন্ত্রীসভায় পাশ করিয়েছেন এবং শনিবার সেনেটে রিভিউয়ের জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন। বিলের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এটি ‘প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়েই আনা হচ্ছে’— যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি জেনারেল আসিম মুনিরকে এই সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদান করবেন।
বিলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্স: তিন বাহিনীর ক্ষেত্রেই এক ব্যক্তিই হবেন সর্বোচ্চ পদাধিকারী।
পারমাণবিক সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ: পারমাণবিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অসামরিক হস্তক্ষেপ সীমিত করা হবে।
ফিল্ড মার্শাল ‘উপাধি’: সর্বোচ্চ সামরিক পদাধিকারী আজীবন ফিল্ড মার্শাল ‘উপাধি’র সুবিধা পাবেন এবং আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।
সুরক্ষা: আর্টিকেল ৪৭ এবং ২৪৮ অনুযায়ী সামরিক নেতৃত্বকে আইনত এবং রাজনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করা হবে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিলের ফলে পাকিস্তানে ধীরে ধীরে সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে। যেখানে পাকিস্তানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাক সেনা ইতিমধ্যেই নাক গলায়, সেখানে এই বিলে সেনাকে যেভাবে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তাতে:
“পাকিস্তানের আম জনতার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে।”
আইনি ও রাজনৈতিকভাবে সেনাকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়ার এই প্রক্রিয়া পাকিস্তানে সামরিক প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেবে এবং বেসামরিক প্রশাসনের ক্ষমতাকে সীমিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।