ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে না চাইলে এখুনি সাবধান! SIR ফর্ম জমা না দিলে কী হবে, জানুন নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া হিসেবে বর্তমানে বাড়ি বাড়ি বিতরণ করা হচ্ছে এসআইআর (SIR) ফর্ম বা বিশেষ এনুমারেশন ফর্ম। এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যেমন বিতর্ক চলছে, তেমনই সাধারণ ভোটারের মনে জন্ম নিয়েছে একাধিক প্রশ্ন: ফর্ম জমা না দিলে কী হবে? কীভাবে এটি পূরণ করতে হবে? এই সব প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া জরুরি।ফর্ম জমা না দিলে কী হতে পারে?নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই ফর্মটি হাতে পাওয়ার পর তা পূরণ করে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যদি আপনি ফর্মটি জমা না দেন, তবে আপনি বড় সমস্যায় পড়তে পারেন:নাম বাদ: আপনার নাম খসড়া ভোটার তালিকায় (Draft Roll) অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারে।অধিকার বাতিল: এর ফলস্বরূপ ভবিষ্যতে আপনি আপনার ভোটদানের অধিকার হারাতে পারেন।নোটিশ: আপনার ঠিকানায় নির্বাচন কমিশন থেকে নোটিশও আসতে পারে।বিশেষ সতর্কতা: ফর্ম হাতে পেলে দেরি না করে দায়িত্ব নিয়ে পূরণ করুন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জমা দিন।ফর্ম পূরণের সঠিক নিয়ম ও সতর্কতাফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও জটিলতা তৈরি করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ফর্ম পূরণের সময় এই নিয়মগুলো অবশ্যই মানতে হবে:বিষয়নিয়মাবলীকালিনীল বা কালো কালির বল পয়েন্ট পেন ব্যবহার করতে হবে।ভাষাফর্ম বাংলায় পূরণ করা যাবে। ইংরেজিতে পূরণ করলে সমস্ত অক্ষর বড় হাতের (Capital Letters) হতে হবে।সংখ্যা লিখনসমস্ত সংখ্যা বা ডিজিট (যেমন আধার নম্বর বা ফোন নম্বর) ইংরেজিতে (1, 2, 3) লিখতে হবে। বাংলা সংখ্যা ব্যবহার করা যাবে না।নাম/ঠিকানানাম, বাবার নাম বা বিধানসভা কেন্দ্রের নাম বাংলায় লেখা যেতে পারে।সময়সীমা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শফর্ম হাতে পাওয়ার পর সাধারণত প্রায় এক মাস সময় থাকে জমা দেওয়ার জন্য। শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে যত দ্রুত সম্ভব ফর্ম জমা দেওয়া ভালো। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন:প্রথমে ফর্মের একটি ফটোকপি করে নিন।সেই কপিতে আগে অনুশীলন হিসেবে সমস্ত তথ্য পূরণ করুন।সবকিছু ঠিকঠাক নিশ্চিত হলে তবেই মূল ফর্মটি পূরণ করুন।আপনার এলাকার বিএলও (BLO) কখন ফর্ম সংগ্রহ করতে আসবেন, তা জেনে নিন বা ফোনে যোগাযোগ করুন।মৃত/নতুন ভোটার এবং পুরনো তালিকার সমস্যামৃত ভোটার: পরিবারের কেউ সম্প্রতি মারা গেলে চিন্তার কিছু নেই। মৃত ভোটারের নামে ফর্ম বাড়িতে দেওয়া হবে না। বিএলও নিজের কাছে সেই ফর্ম রেখে যথাযথ দপ্তরে জমা দেবেন।নতুন ভোটার: যাঁরা সম্প্রতি ১৮ বছর পূর্ণ করেছেন, তাঁরা আলাদা ফর্ম পূরণ করে নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই: যদি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আপনার বা পরিবারের সদস্যদের নাম না থাকে, তবুও ফর্ম পেলে তা জমা দিতে হবে। ফর্মের নিচের দিকের সেই অংশ ফাঁকা রাখুন। জমা দেওয়ার পর ড্রাফট রোলে আপনার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে এবং পরবর্তীতে ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হবে। তখন নির্দিষ্ট ১১টি নথির মধ্যে যেকোনো একটি জমা দিলেই সমস্যার সমাধান হবে।