ইসরোর গুরুত্ব কি কমছে? জল্পনা উড়িয়ে ইন-স্পেস প্রধান যা বললেন, শুনলে চমকে যাবেন!

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তথা ইসরো (ISRO)-র ভবিষ্যৎ ও গুরুত্ব কমা নিয়ে গণমাধ্যমে চলা যাবতীয় জল্পনা ও বিভ্রান্তিকর খবরের কড়া জবাব দিয়েছেন ইন-স্পেস (IN-SPACe)-এর চেয়ারম্যান পবন কে গোয়েঙ্কা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্পষ্ট বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের মহাকাশ গবেষণায় ইসরোর ভূমিকা কমার বিন্দুমাত্র কোনো সম্ভাবনা নেই; বরং মহাকাশ ক্ষেত্রে তারাই দেশের মূল ভিত্তি হয়ে থাকবে।

পবন গোয়েঙ্কার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে মহাকাশ ক্ষেত্রে যে ঐতিহাসিক সংস্কার আনা হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য ইসরোকে ছোট করা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক মহাকাশ ইকোসিস্টেমকে আরও বড় ও শক্তিশালী করা। এই ব্যবস্থার অঙ্গ হিসেবে ইন-স্পেস বেসরকারি সংস্থাসুলভ গবেষণায় অংশ নিতে সাহায্য করছে, অন্যদিকে নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড (NSIL) ইসরোর তৈরি প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক রূপ দিচ্ছে। ভবিষ্যতে বেসরকারি সংস্থাগুলি যখন পরিণত লঞ্চ ভেহিকেল ও স্যাটেলাইট উৎপাদনে জোর দেবে, তখন ইসরো পুরোপুরি নিজেদের সঁপে দেবে এমন সব অত্যাধুনিক গবেষণা, সায়েন্টিফিক মিশন এবং কৌশলগত কাজের দিকে যা কেবল তাদের পক্ষেই করা সম্ভব।

মহাকাশ ক্ষেত্রের এই রূপান্তরের পেছনে ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন’ তৈরি এবং ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর মতো সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে গোয়েঙ্কা জানান, দেশের মহাকাশ স্টার্টআপের সংখ্যা যেখানে একসময় হাতে গোনা ছিল, তা এখন বেড়ে সাড়ে চারশোরও বেশি হয়েছে। এমনকি বেসরকারি শিল্পমহল ইতিমধ্যেই কক্ষপথে রকেট পাঠাতে সফল হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৫০টি উৎক্ষেপণের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে, তা একা কোনো একটি সংস্থার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয় বলেই সরকার ও বেসরকারি শিল্পকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইন-স্পেস প্রধান।