‘ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তা খুঁড়ে দেওয়া হয়েছে’, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতি অবমাননা দেখে কোন বুদ্ধিজীবীদের আক্রমণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী?

‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাঙালি অস্মিতায় শান দিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতায় পদযাত্রা করেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি থেকে কলেজস্ট্রিট পর্যন্ত এই মিছিলে ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান ওঠে। কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্রের মূর্তিতে মাল্যদানের আগে মিছিলের পথেই দেখা গেল চরম উত্তেজনা এবং বিতর্ক।

ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তা খোঁড়ার অভিযোগ
মিছিল যখন কলেজস্ট্রিটের দিকে এগোয়, তখন বঙ্কিমচন্দ্র স্মৃতি গ্রন্থাগারের ঠিক আগে রাস্তার বেহাল দশা দেখে ক্ষুব্ধ হন শুভেন্দু অধিকারী। পুরো রাস্তা এবড়োখেবড়ো, অনেক জায়গায় পলেস্তরা উঠে রয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, তিনি আসবেন বলেই ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে রাস্তা খুঁড়ে দেওয়া হয়েছে! এমনকি গ্রন্থাগারের গেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষোভ: “যেই শুনেছি আমি আসব, ইচ্ছা করে কালকে রাস্তা খুঁড়ে দিয়েছে। বাংলা বাংলা বলে চিৎকার করে তো ওরা। বাঙালি দেখুন সাহিত্য সম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতি কতটা অপমান।”

বুদ্ধিজীবীদের আক্রমণ: বেহাল রাস্তা দেখে তিনি রাজ্যের বুদ্ধিজীবীদেরও আক্রমণ করে বলেন, “ফাঁকা বুদ্ধিজীবী শুভাপ্রসন্ন, অপর্ণা সেন, কৌশিক সেনকে দেখান এই রাস্তা! শীর্ষেন্দুবাবুকে দেখান, এসে দেখে যান, রাস্তার কী পরিস্থিতি।”

কুণাল ঘোষ ও তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ
শুভেন্দু অধিকারীর এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “যাঁরা বন্দে মাতরম স্লোগানটার মর্ম বোঝেন না। যাঁদের স্বাধীনতা আন্দোলনে কোনো ভূমিকা নেই। যাঁরা বাংলাকে অপমান করেন, যাঁরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান করেন, যাঁরা জনগণমনকে অপমান করেন, তাঁরা আজকে নাটক করছেন। তাঁদের বন্দে মাতরম বলার কোনো নৈতিক অধিকারই নেই।”

অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “উন্নয়নের জন্য রাস্তা খুঁড়তে হয়। কবে শুভেন্দু অধিকারী আসবেন, উন্নয়ন বন্ধ থাকবে, রাস্তার কাজ বন্ধ থাকবে, এরকম অন্যায় আবদার তো কেউ শোনেননি। গলা চিৎকার করে বললেই সেটা শুনতে হবে!”

এছাড়াও, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন কংগ্রেস সমর্থক শুভেন্দু অধিকারীকে কালো পতাকা দেখালে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে শুভেন্দু সমস্ত বাধা পেরিয়ে তাঁর গন্তব্যে এগিয়ে যান।