মহা মূল্যবান সম্পদ, কিন্তু স্থানীয়রা ভয় পাচ্ছেন কেন? কেনিয়ার মৃমা পাহাড়ের দুর্লভ খনিজ ভান্ডার কী ডেকে আনবে ধ্বংস?

ভারত মহাসাগরের কাছে অবস্থিত কেনিয়ার কোয়ালে কাউন্টির মৃমা পাহাড় এখন বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর আলোচনার কেন্দ্রে। ৩৯০ একর জায়গা জুড়ে থাকা এই আপাত-সাধারণ পাহাড়ের অরণ্যের গভীরে লুকিয়ে রয়েছে বিরল খনিজ পদার্থের বিপুল ভান্ডার, যার মূল্য ৬২৪০ কোটি ডলার বা প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ কোটি টাকা! এই সম্পদ হাতে পেতে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু করেছে আমেরিকা, চীন এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলি।

কেন এত মূল্যবান এই পাহাড়?

বিজ্ঞানীদের দাবি, মৃমার গর্ভে থাকা এই ভান্ডারে রয়েছে শক্তিশালী ইস্পাত তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য ধাতু নিওবিয়াম সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নমনীয় রূপান্তর ধাতু। স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবস্থার মতো শিল্পে কার্বন নির্গমন কমাতে এই খনিজের ভূমিকা যুগান্তকারী হতে পারে। বিশ্ব উষ্ণায়নের মোকাবিলা এবং প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য এই সম্পদ কুক্ষিগত করার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বর্তমানে তীব্রতর।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও স্থানীয় উদ্বেগ:

মৃমা পাহাড়ের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিদেশি শক্তিগুলোর নজর কেড়েছে। গত জুনে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্ক ডিলার্ড এই এলাকা পরিদর্শন করেন, যা প্রমাণ করে আফ্রিকার খনিজ সম্পদের ওপর ওয়াশিংটনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রায় একই সময়ে চিনা নাগরিকদের জঙ্গলে প্রবেশের চেষ্টা স্থানীয় রক্ষীদের বাধা দেওয়ার ঘটনা এই প্রতিযোগিতা আরও স্পষ্ট করে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সংস্থা ‘রেয়ারএক্স’ এবং ‘ইলুকা রিসোর্সেস’-ও অনুসন্ধানের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় ডিগো জনগোষ্ঠীর কাছে মৃমা পাহাড় ও সংলগ্ন বনভূমি অত্যন্ত পবিত্র এবং তাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে খাদ্য, ওষুধ ও আধ্যাত্মিক আশ্রয় দিয়ে এসেছে। তাদের আশঙ্কা, এই আন্তর্জাতিক লড়াইতে বিদেশি সংস্থাগুলি বিপুল মুনাফা কামালেও, পরিবেশ ধ্বংস হবে এবং স্থানীয়রা জমি হারাতে পারেন।

কেনিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ:

দুর্নীতিতে জর্জরিত কেনিয়ার খনি খাতে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। ২০১৩ সালে পরিবেশগত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘কর্টেক মাইনিং কেনিয়া’র লাইসেন্স বাতিল করেছিল সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে খনি খননের আগে কঠোর আইনের প্রয়োগ না হলে দেশের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। পরিবেশ ও স্থানীয় ঐতিহ্য রক্ষা করে এই প্রাকৃতিক সম্পদের সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন কেনিয়া সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।