জনবহুল এলাকা থেকে পথকুকুর সরাতে কঠোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের; টিকা ও পুনর্বাসন বাধ্যতামূলক

স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, রেলস্টেশন ও খেলার মাঠের মতো জনবহুল এলাকায় পথকুকুরের ক্রমবর্ধমান দৌরাত্ম্য নিয়ে অবশেষে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরের আশপাশ থেকে সব পথকুকুরকে সরাতে হবে। তবে এই অপসারণের আগে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যথাযথ টিকাকরণ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ (ABC নিয়ম)।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ধরা কুকুরদের আগের জায়গায় ছেড়ে দিলে এই উদ্যোগ ব্যর্থ হবে; তাই তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করে সেখানেই রাখতে হবে। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গত ২৮ জুলাই আদালত কর্তৃক স্বতঃপ্রণোদিত মামলার (Suo Motu Case) পর, যেখানে সংবাদমাধ্যমে শিশুদের ওপর কুকুরের কামড় এবং জলাতঙ্কে মৃত্যু বৃদ্ধির ঘটনা সামনে এসেছিল।
সুরক্ষার নির্দেশ: প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে তাদের এলাকার সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও স্পোর্টস কমপ্লেক্স চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে এবং জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলিকে এমনভাবে ঘেরা বা সুরক্ষিত করতে হবে যাতে পথকুকুর প্রবেশ করতে না পারে। নিয়মিত পরিদর্শনে নিশ্চিত করতে হবে যে পরিসরগুলিতে কোনো কুকুর নেই।
কর্মীদের খাওয়ানোয় অসন্তোষ: আদালত সম্প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিল যে অনেক সরকারি সংস্থার কর্মী প্রতিষ্ঠান চত্বরে কুকুরদের খাওয়ান, যা সমস্যা বাড়াচ্ছে—এটিকে ‘গুরুতর সমস্যা’ হিসেবে দেখতে হবে। আদালত আরও তিরস্কার করে বলেছিল, পশ্চিমবঙ্গ ও তেলেঙ্গানা বাদে অন্য রাজ্যগুলিতে নিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপে ঘাটতি রয়েছে।
গবাদি পশুদের ক্ষেত্রেও কঠোরতা: শুধু পথকুকুর নয়, রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো গবাদিপশুদের নিয়েও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। রাজস্থান হাইকোর্টের পূর্বের নির্দেশ মেনে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, হাইওয়ে ও এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গরুসহ সব ধরনের উন্মুক্ত পশু সরাতে হবে। জাতীয় ও রাজ্য সড়কে নজরদারির জন্য ২৪ ঘণ্টার পেট্রোল টিম রাখতে হবে এবং প্রতিটি হাইওয়েতে স্ট্রে অ্যানিমেল হেল্পলাইন নম্বর স্পষ্টভাবে টাঙিয়ে দিতে হবে। সরানো পশুদের রাখার জন্য পর্যাপ্ত গোশালা ও প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে আদালত চাইছে রাস্তাঘাটে অবাধে পশুর ঘোরাঘুরি বন্ধ হোক, তবে শর্ত হলো এই প্রক্রিয়ায় পশুদের প্রতি কোনো নিষ্ঠুরতা করা চলবে না।
পরবর্তী শুনানি ১৩ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।