আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নয়, মুনাফাই লক্ষ্য! বেসরকারীকরণের ঝুঁকি কী কী? মুখ খুললেন ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চের মুখপাত্র

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ব্যাঙ্ক বেসরকারীকরণ সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নয়টি ট্রেড ইউনিয়ন। গত ৪ নভেম্বর দিল্লি স্কুল অফ ইকোনমিক্সে ডায়মন্ড জুবিলি সমাপনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দাবি করেন যে, ব্যাঙ্কের বেসরকারীকরণে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বা জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি হবে না।

অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই সমস্ত ব্যাঙ্কের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নয়টি ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (UFBU) একটি বিবৃতি জারি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ইউনিয়নগুলির মূল দাবি: ইউএফবিইউ-এর বিবৃতিতে সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলির (PSB) অবদানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অভিযানকে এগিয়ে নিতে সরকারি ব্যাঙ্কগুলিকে মূলধন সহায়তা দিয়ে শক্তিশালী করতে হবে, বেসরকারীকরণ করা যাবে না।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: পিএসবি-র মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার অধীনে ৯০ শতাংশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। অগ্রাধিকার ঋণ, সামাজিক ব্যাঙ্কিং, গ্রামীণ যোগাযোগ এবং আর্থিক সাক্ষরতা প্রায় সম্পূর্ণরূপে সরকারি ব্যাঙ্কগুলির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

স্থিতিস্থাপকতা: ইউএফবিইউ-এর মতে, আজ যদি ভারতীয় ব্যাঙ্কিং খাত শক্তিশালী হয়, তবে তা জনসাধারণের মালিকানার মধ্যে নির্মিত স্থিতিস্থাপকতার কারণেই সম্ভব হয়েছে। বেসরকারীকরণ অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে এই দাবি প্রমাণ ছাড়া করা অসম্ভব।

ইতিহাস: ইউএফবিইউ মনে করিয়ে দিয়েছে, ১৯৬৯ সালে ব্যাঙ্কগুলির জাতীয়করণ ছিল দেশের আর্থ-সামাজিক ভিত্তিকে পুনর্গঠিত করার এক মৌলিক পদক্ষেপ। সরকারি ব্যাঙ্কগুলি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়সঙ্গত জাতীয় উন্নয়নের বাহক হয়ে ওঠে, কারণ তারা ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠান।

বেসরকারীকরণের প্রতিকূল প্রভাব ও ঝুঁকি: ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চের মুখপাত্র অশোক মুখোপাধ্যায় (এসবিআই স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন ডেপুটি চিফ সেক্রেটারি) বেসরকারীকরণের একাধিক প্রতিকূল প্রভাব এবং ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছেন:

মুনাফা সর্বস্বতা: বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি কেবল সেখানেই ঋণ দেয় যেখানে লাভ বেশি। তারা লোকসানে চলা শাখা বন্ধ করে দেবে, ফি বৃদ্ধি করবে এবং দুর্বল গোষ্ঠীগুলিকে অবহেলা করে শুধু মুনাফার স্বার্থেই পরিচালিত হবে।

আর্থিক বৃদ্ধির গতি অবরুদ্ধ: বেসরকারীকরণের ফলে দেশের গ্রামীণ এবং আধা-শহুরে অঞ্চলের আর্থিক বৃদ্ধির গতি অবরুদ্ধ হবে।

জাতীয় বাধ্যবাধকতা পালনে অনীহা: জন ধন, সরাসরি বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) ট্রান্সফার, পেনশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বাধ্যবাধকতাগুলি বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি এই দায়িত্ব নেয় না।

চাকরির নিরাপত্তা হ্রাস: এর ফলে কর্মী সংখ্যা হ্রাস, চুক্তিভিত্তিক চাকরি, চাকরির নিরাপত্তা হ্রাস, সংরক্ষণের সুবিধা হ্রাস এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।

ইউএফবিইউ জানিয়েছে, সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলির বেসরকারীকরণ জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করবে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিপন্ন করবে এবং চাকরির নিরাপত্তা ও জনসাধারণের তহবিলকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।