ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্কের এক নতুন সোনালী অধ্যায়, কোন মেগা প্রজেক্টে হাত মেলাল দুই দেশ?

নয়াদিল্লিতে আজ এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার। দুই রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতিতে ভারত ও বেলজিয়ামের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একটি নতুন সমঝোতা স্মারক (MoU) বিনিময় হয়। বৈঠকের পর এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান যে, দুই দেশ বর্তমানে ‘জোরাভার ট্যাঙ্ক’-এর মতো অত্যন্ত আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করছে। এর পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাদায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম পরিবেশবান্ধব গ্রিন অ্যামোনিয়া প্রকল্প গড়ে তোলার কাজেও দুই দেশ একসঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারকে তাঁর এই প্রথম ভারত সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। যদিও এটি তাঁর প্রথম সরকারি ভারত সফর, তবুও ভারতের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। অতীতে তিনি দীর্ঘদিন অ্যান্টওয়ার্পের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেখানকার বৃহৎ ভারতীয় সম্প্রদায় ও ভারত-বেলজিয়াম হীরা বাণিজ্যকে সর্বদা সর্বতোভাবে সমর্থন যুগিয়েছেন। ভারত-বেলজিয়াম বন্ধুত্বের শিকড় ইতিহাসে অত্যন্ত গভীরভাবে প্রোথিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেলজিয়ামের মাটিতে হাজার হাজার ভারতীয় সৈন্যের বীরত্ব, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ আমাদের যৌথ ইতিহাসের এক চিরস্মরণীয় অধ্যায়। বর্তমান যুগে অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার গভীর আত্মিক সম্পর্ক আমাদের আজ একে অপরের স্বাভাবিক ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার করে তুলেছে।”
প্রতিরক্ষা ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি শক্তির মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোর ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আজ আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি গতানুগতিক ক্ষেত্রগুলো পেরিয়ে প্রতিরক্ষা এবং সবুজ শক্তির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতেও দারুণভাবে প্রসারিত হয়েছে। আমরা আধুনিক জোরাভার ট্যাঙ্ক তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করছি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাদায় বিশ্বের অন্যতম মেগা গ্রিন অ্যামোনিয়া প্রজেক্ট রূপায়ণ করছি। তাছাড়া, চলতি বছরের শুরুতেই আমরা ঐতিহাসিক ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। বিশ্বের দুটি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক শক্তির এই মেলবন্ধন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও যৌথ সমৃদ্ধিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
বৈঠকে দুই দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের মজবুত সংযোগ স্থাপন, সামুদ্রিক খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেধাবী তরুণদের যাতায়াত ও গতিশীলতা সহজতর করতে শীঘ্রই একটি নতুন অভিবাসন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান যে, ইউক্রেন হোক কিংবা পশ্চিম এশিয়া—সব সংঘাতের দ্রুত অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফেরানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা যে দুই দেশেরই যৌথ অঙ্গীকার, সেকথাও স্পষ্ট করে দেন তিনি।