আইন পড়ুয়াদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়! বিসিআই-এর একচ্ছত্র অধিকারে বড় ধাক্কা?

আইন সংক্রান্ত শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে চলা দীর্ঘ আইনি বিতর্কের আবহে এক ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) এবং বিভিন্ন রাজ্য বার কাউন্সিলের কাছে আইন পড়ুয়া বা ল’ স্টুডেন্টদের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার কোনো আইনি ক্ষমতা বা এখতিয়ার নেই। শীর্ষ আদালতের সাফ কথা, এই সমস্ত সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলি কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তখনই সুনির্দিষ্ট অনুশাসनात्मक বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে, যখন ওই শিক্ষার্থী আইনগতভাবে একজন পেশাদার অ্যাডভোকেট হিসেবে নিজেকে এনরোল বা নথিভুক্ত করেন।
ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। বেঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, কোনো ল’ স্টুডেন্টের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অনুশাসनात्मक পদক্ষেপ নেওয়ার একমাত্র অধিকার সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রয়েছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও বিধিবিধান মেনেই এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
বিশিষ্ট আইন বিষয়ক পোর্টাল ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত আরও জানিয়েছে যে, “শিক্ষার্থী যে নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি হয়েছেন ও नामांकित রয়েছেন, সেই ক্ষমতার পরিধি একমাত্র সেই প্রতিষ্ঠানেরই।” বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া আইন শিক্ষার প্রাথমিক মান নির্ধারণ এবং তা কঠোরভাবে বলবৎ করার ক্ষমতা রাখলেও, তা কেবল প্রচলিত আইনি বিধান ও নির্ধারিত নিয়মাবলীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কোনো অবস্থাতেই বিসিআই কোনো সাধারণ ল’ স্টুডেন্টের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো শাস্তিমূলক বা অনুশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারে না।
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট বিসিআই-এর একটি বিতর্কিত নির্দেশ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই আদেশে বলা হয়েছিল যে, নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল’-এর ২০২৬ ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটদের রাজ্য বার কাউন্সিলে এনরোল করা হবে না। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে প্রধান বিচারপতির উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের প্রতিবাদের জেরেই ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে প্রবল রাজনৈতিক ও আইনি চাপের মুখে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বিসিআই চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র পরবর্তীতে এক স্পষ্টীকরণে বলেন যে, সুস্থ গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও প্রতিবাদের অধিকার সবসময় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাবাবেগ আহত হওয়ায় তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ভুল স্বীকার করা বা ক্ষমা চাওয়া কোনো অহংকারের বিষয় নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সম্মান ও অনুভূতিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। শীর্ষ আদালতের এই সাম্প্রতিক রায় আইন পড়ুয়াদের অধিকার ও প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ারের সীমানা নির্ধারণে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।