“২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার দীর্ঘ অপেক্ষা!”-হেলিকপ্টারে উঠে নিরাপদ জায়গায় যেতে মরিয়া লোকজন

চারদিকে থিকথিকে কাদামাটির স্তূপ আর কেবলই ধ্বংসাবশেষের কঙ্কালসার রূপ। ঠিক তেমনই এক শ্মশানপুরীর মাঝে ছেলেকে বুকে আগলে শূন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন পেমা। সর্বস্ব হারিয়ে এখন তাঁর একটাই প্রার্থনা—কখন আসবে উদ্ধারের সেই সোনালী চপার। নেপালের এই সাম্প্রতিক ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ঘরবাড়ি সব ভেসে গিয়েছে। একমাত্র সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এখন কোনো রকমে কাঠমান্ডুতে ভাইয়ের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তবেই না নিজের ভিটেমাটিতে ফেরার কথা ভাববেন এই হতভাগা মা।

সংবাদ সংস্থা এনডিটিভি-কে পেমা জানিয়েছেন, সর্বস্ব হারানোর পর সেনাবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে কোনোমতে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে এসেছে। কিন্তু এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য, যেকোনো উপায়ে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডু পাড়ি দেওয়া। শুধু পেমা একা নন, তাঁর মতো শত শত বাস্তুহারা মানুষ দীর্ঘ ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কেবল একটি উদ্ধারক চপারের অপেক্ষায়। নেপালের এই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া দুর্গত এলাকাগুলিতে আটকে থাকা মানুষদের বাঁচাতে দিনরাত এক করে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল আর্মি। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় হেলিকপ্টারের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে উদ্ধার করে নিয়ে আসার পর প্রথমে দুর্গতদের নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এরপর একটি নির্দিষ্ট ক্রম বা সিরিয়াল অনুযায়ী নাম ডাকা হলে তবেই মিলছে হেলিকপ্টারে ওঠার সুযোগ। আর এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার জেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের।

এদিকে এই বিপর্যয়ের মধ্যেই প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের এই প্রলয়ংকরী বন্যায় এখনও পর্যন্ত ১২০০-রও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৪ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। প্রকৃতির এই চরম তাণ্ডবের মাঝেও প্রথম মহিলা হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেনের নেতৃত্বে উদ্ধারকাজের কিছু সাহসী চিত্র খানিকটা আশার আলো দেখালেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ভয়াবহ।