“নাম না নিয়ে কুমন্তব্য”-কর্নেল সোফিয়া কুরেশি কাণ্ডে মন্ত্রীর পাশে দাঁড়াল মধ্যপ্রদেশ সরকার

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় সাংবাদিক বৈঠক করে দেশজুড়ে প্রচারের আলোয় উঠে আসা ভারতীয় সেনার কর্নেল সোফিয়া কুরেশি সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার ঘটনায় দেশজুড়ে তৈরি হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেই মামলায় অভিযুক্ত মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কুঁয়ার বিজয় শাহের বিরুদ্ধে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চালানোর অনুমতি দিতে পরিষ্কার অস্বীকার করল রাজ্যের মোহন যাদব সরকার। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশকে পাশ কাটিয়ে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা না চালানোর এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ অগস্ট মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানেই সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে অভিযুক্ত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের অনুমতি দেওয়া হবে না। মন্ত্রিসভার এই প্রস্তাব দ্রুত রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হলে তিনিও তাতে সিলমোহর দেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুপ্রিম কোর্টকে তাদের এই অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দেওয়া হবে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
কেন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা চালাতে নারাজ সরকার?
সরকারের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কয়েকটি জোরালো যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, ঘটনার অব্যবহিত পরে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ব্যক্তি থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি এবং পুলিশও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো এফআইআর নথিভুক্ত করেনি। দ্বিতীয়ত, মন্ত্রীর সেই বিতর্কিত বক্তব্যে নির্দিষ্টভাবে কর্নেল সোফিয়া কুরেশির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তৃতীয়ত, ওই মন্তব্যের জেরে রাজ্যের কোথাও কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়নি কিংবা তেমন কোনো অসৎ অভিপ্রায়ও মন্ত্রীর ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। চতুর্থত, মন্ত্রী কুঁয়ার বিজয় শাহ ইতিমধ্যেই তাঁর মন্তব্যের জন্য একাধিকবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অতীতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সফল সমাপ্তির পর একটি জনসভায় মন্ত্রী শাহ মন্তব্য করেছিলেন, “যারা আমাদের বোনেদের বৈধব্য দিয়েছে, তাদেরই এক বোনকে আমরা পাঠিয়েছি তাদেরই শিক্ষা দিতে।” এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তুমুল প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এরপর বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) ঘটনার তদন্ত শুরু করে। কিন্তু সিটের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও মামলার ছাড়পত্র দিতে দীর্ঘসূত্রিতা করায় আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত সেই সময় অভিযুক্ত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে মামলা চালানোর নির্দেশ দিলেও, মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ গোটা আইনি লড়াইতে এক অভূতপূর্ব মোড় এনে দিল।