সিজারের পর পেটের ভেতর রয়ে গেল ব্যান্ডেজ! সংক্রমণ ছড়িয়ে দেরাদুনে ২৬ বছরের তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু, হাসপাতাল ঘিরে চরম উত্তেজনা

চিকিৎসকের চরম গাফিলতির জেরে প্রসবের পর মৃত্যু হলো ২৬ বছর বয়সী এক তরুণীর। অভিযোগ উঠেছে, সিজার করার পর চিকিৎসকরা তরুণীর পেটের ভেতর ব্যান্ডেজের একটি অংশ রেখেই সেলাই করে দিয়েছিলেন। সেই ব্যান্ডেজের কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা ঘিরে দেরাদুনের বেসরকারি হাসপাতালে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
মৃত তরুণীর নাম জ্যোতি পাল। তাঁর পরিবার সূত্রে অভিযোগ, জানুয়ারি মাসে দেরাদুনের ওই বেসরকারি হাসপাতালে জ্যোতির সিজার করা হয়। অপারেশনের সময়ই চিকিৎসক চরম গাফিলতি করেন এবং পেটের ভেতরে ব্যান্ডেজের একটি অংশ থাকা অবস্থাতেই সেলাই করে দেন।

প্রথমে কোনো সমস্যা না হলেও, কিছু দিন পর থেকেই জ্যোতির তলপেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। সেই অবস্থাতেই তাঁকে ফের একই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা সমস্যার প্রকৃত কারণ জানাতে পারেননি।

ক্রমশ অবস্থার অবনতি হতে থাকলে জ্যোতিকে অন্য এক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, জ্যোতির পেটের ভেতরে ব্যান্ডেজের একটি অংশ রয়ে গিয়েছে। সেটির জন্যই ইনফেকশন হয় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত এই সংক্রমণের কারণে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়।

তদন্তে নামল চার সদস্যের কমিটি
জ্যোতির মৃত্যুতে তাঁর স্বামী প্রজ্বল পাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পরিবার ও স্থানীয় মহলে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে প্রশাসন চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মনোজ শর্মার নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে জানা গিয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই হাসপাতাল প্রশাসনের কাছ থেকে নথি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।