গৃহকর্তার সামনেই নারকীয় কাণ্ড! মা ও দেড় বছরের শিশুকন্যাকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারল হাতি, মাদারিহাটে একই রাতে মৃত ৩

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন মাদারিহাট এলাকায় বুনো হাতির হানায় ঘটল এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। গৃহকর্তার চোখের সামনে তাঁর স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশুকন্যাকে শুঁড়ে টেনে নিয়ে গিয়ে আছড়ে মারল হাতি। বুধবার রাতভর হাতির তাণ্ডবে এই এলাকায় মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

গৃহকর্তার সামনেই মর্মান্তিক পরিণতি
ঘটনাটি ঘটে বুধবার গভীর রাতে মাদারিহাটের মধ্য খয়েরবাড়ি এলাকায়। সোনাই মুণ্ডা নামের ওই গৃহকর্তার স্ত্রী সোনিয়া মুণ্ডা তাঁর দেড় বছরের শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। এই সময় হঠাৎই একটি বুনো হাতি আক্রমণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শী সোনাই মুণ্ডা দেখেন, বুনো হাতিটি তাঁর স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে শুঁড় দিয়ে টেনে তুলে নিয়ে গিয়ে মাটিতে সজোরে আছড়ে মারে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের মৃত্যু হয়। স্ত্রী ও শিশুকে বাঁচাতে গ্রামবাসীদের নিয়ে হাতির পিছু নিলেও শেষ রক্ষা আর হলো না। জঙ্গলের সামনে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন গৃহকর্তা সোনাই মুণ্ডা।

তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সন্ধ্যাবেলাতেও মৃত্যু
বুধবার গভীর রাতের এই ঘটনার আগেও, সন্ধ্যাবেলায় মাদারিহাটের ছেকামারী এলাকায় হাতির হানায় কাদের আলি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ, একই রাতে হাতির আক্রমণে মাদারিহাট থানা এলাকায় তিনজনের প্রাণহানি ঘটল।

বন বিভাগের আশ্বাস
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত দু’দিন ধরে এলাকায় হাতির উৎপাত মারাত্মকভাবে বেড়েছে। হাতির আনাগোনা বাড়ায় এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বুনো হাতির হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বন দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভও বাড়ছে।

জলদাপাড়া বন বিভাগের ডিএফও প্রবীণ কাসওয়ান অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, এলাকায় হাতির আনাগোনা বেড়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বনকর্মীদের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং এলাকার সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।