রাহুল গান্ধীর ‘পটাকা’! ‘ট্রাম্পের ভয়ে কুঁকড়েছেন মোদী’, রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিরোধী নেতার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) একটি মন্তব্যের পরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, ভারত আর রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। এই মন্তব্যের পরই রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবার সকালে মোদীকে বিঁধে বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, তিনি রিপাবলিকান নেতাকে কতটা ‘ভয়’ পান।

ট্রাম্পের দাবি ও রাহুলের কটাক্ষ
বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ভারত যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে, সে বিষয়ে আমি খুশি ছিলাম না। আজ মোদী আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন, তারা আর রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। এটা একটি বড় পদক্ষেপ।” ট্রাম্প মোদীকে তাঁর ‘বন্ধু’ বলেও বর্ণনা করেন।

এরপরেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সমাজ মাধ্যমে তীব্র তির্যক মন্তব্য করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের ভয়ে কুঁকড়ে রয়েছেন। তিনি বলেন,

১. সিদ্ধান্ত ঘোষণার সুযোগ: রাশিয়া (India-Russia Relation) থেকে তেল কেনা বন্ধের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণার সুযোগ প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পকে কেন দিলেন? ২. বারবার ধমক: ট্রাম্পের মুখে বারবার অপদস্থ, তির্যক কথা শোনার পরও প্রধানমন্ত্রী তাঁকে লাগাতার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পাঠিয়ে চলেছেন। ৩. অন্যান্য সিদ্ধান্ত: অর্থমন্ত্রীর আমেরিকা সফর বাতিল করা এবং মিশরের আন্তর্জাতিক সম্মেলন এড়িয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতার লক্ষণ।

‘দেশের সম্মানের সঙ্গে আপস’
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, গাজা শান্তি চুক্তি নিয়ে বারবার ট্রাম্পের ভজনা করেছেন মোদী এবং ভারত-পাক মিনিযুদ্ধ থামানোর দাবি নিয়েও ট্রাম্পকে কিছু বলার সাহস দেখাননি।

কংগ্রেস (Congress) দলের তরফেও বলা হয়েছে, রাশিয়া ভারতের দীর্ঘদিনের শরিক দেশ। দেশের সম্মানের সঙ্গে আপস করে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার। বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট অভিযোগ করেন, “ট্রাম্পের রাগ ও হুমকির মুখে মোদী মাথা হেঁট করে রাশিয়া থেকে তেল না কেনার আশ্বাস দিয়ে দেশকে অপমানিত করেছেন। নরেন্দ্র মোদী একজন দুর্বল প্রধানমন্ত্রী।”

যদিও নয়াদিল্লি এখনও পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি নিয়ে কোনও সরকারি জবাব বা বিবৃতি দেয়নি। কিন্তু ট্রাম্পের মন্তব্য এবং রাহুলের আক্রমণ, দুইয়ের জেরেই ভারতের আন্তর্জাতিক নীতি এবং প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।