সুখের সংসার টিকল না ৬ মাস! চিকিৎসক স্ত্রীকে অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে খুন স্বামীর, শেষমেষ ফাঁস হলো কেচ্ছা

প্রায় ছ’মাস আগে বেঙ্গালুরুতে এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের মৃত্যু ঘিরে যে রহস্য তৈরি হয়েছিল, তা এবার উন্মোচিত হলো। প্রথমে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে হলেও, মৃত চিকিৎসকের বাবা-মায়ের লাগাতার চাপ ও পুলিশের নিবিড় তদন্তে অবশেষে সামনে এলো এক ভয়াবহ সত্য। নিজের চিকিৎসক স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে তাঁর স্বামী, আরেক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে ‘ঠান্ডা মাথায় খুন’
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণী চিকিৎসকের নাম ক্রথিকা এম রেড্ডি (Krutika M Reddy)। তাঁকে খুনের অভিযোগে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্বামী, শল্য চিকিৎসক মহেন্দ্র রেড্ডি জিএস-কে। পুলিশের দাবি, নিজের পেশাদার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মহেন্দ্র ঠান্ডা মাথায় স্ত্রীকে খুন করে তা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন।
মহেন্দ্র প্রথমে দাবি করেছিলেন, হজম সংক্রান্ত সমস্যা এবং ব্লাড সুগারের মাত্রা কমে গিয়েই ক্রথিকার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ফরেন্সিক রিপোর্টে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীদের সংজ্ঞাহীন করতে ব্যবহৃত ‘প্রোপোফল’ নামে একটি ওষুধ প্রয়োগ করেই স্ত্রীকে খুন করেছেন মহেন্দ্র। এই অ্যানেস্থেশিয়ার অতিরিক্ত মাত্রার ফলেই শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা শুরু হয় এবং মৃত্যু হয় ক্রথিকার।
বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিং জানিয়েছেন, প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয় এবং ফরেন্সিক রিপোর্টে ঘুমের ওষুধের নমুনা মেলার পরই খুনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
খুনের নেপথ্যে আর্থিক চাপ ও পরকীয়া?
তদন্তে পুলিশের দাবি, আর্থিক ও ব্যক্তিগত কারণেই মহেন্দ্র রেড্ডি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ক্রথিকার বাবার করা অভিযোগগুলি আরও বেশি বিস্ফোরক:
আর্থিক চাপ: একটি নতুন হাসপাতাল খোলার জন্য মহেন্দ্র নাকি বার বার টাকা চেয়ে ক্রথিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। যদিও আগেই মেয়ের ক্লিনিক খোলার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন ক্রথিকার বাবা-মা।
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক: মৃতার বাবা অভিযোগ করেছেন, মহেন্দ্র রেড্ডির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।
পণ ও গার্হস্থ্য হিংসা: পণের জন্য মেয়ের ওপর অত্যাচার এবং গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
পুলিশের দাবি, মহেন্দ্র পর পর তিন দিন ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে স্ত্রীর শরীরে ওই অ্যানেস্থেশিয়ার ওষুধ প্রয়োগ করেন। তিনি স্ত্রীকে বলেছিলেন, হজমের সমস্যার জন্য ওই ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে। স্ত্রীর মৃত্যুর পরও মহেন্দ্র ময়নাতদন্ত করাতে রাজি হচ্ছিলেন না—তাঁর এই আচরণই পুলিশের প্রথম সন্দেহের জন্ম দেয়।